মণিপুরের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিজেপির মেইতেই মুখ খেমচাঁদ সিং
বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লি: আগামী সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি শাসনের মেয়াদ শেষ। তার আগেই মণিপুরের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিল বিজেপি। দিল্লিতে দলীয় বৈঠক শেষে মেইতেই সম্প্রদায়ভুক্ত বিধায়ক জুমনাম খেমচাঁদ সিংকে বিধানসভার দলনেতা ও মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি শাসন শেষ হলে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন সিংজামেইয়ের বিধায়ক খেমচাঁদ।গত কয়েক বছর ধরে জাতি হিংসায় রক্তাক্ত মণিপুর। আগামী সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি শাসনের শেষে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের ভবিষ্যৎ কী, তা ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই প্রবল জল্পনা চলছিল। নতুন সরকার গঠনের পরিকল্পনার পাশাপাশি কুকি ও মেইতেই উভয় পক্ষকেই কীভাবে খুশি করা যায়, তা নিয়েও দীর্ঘ চর্চা চলে। ঠিক হয়, নতুন সরকারে মুখ্যমন্ত্রী পদে মেইতেই জনগোষ্ঠীভুক্ত কোনো মুখকে আনা হবে। উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন দু’জন। একজন কুকি সম্প্রদায়ের, অন্যজন নাগা। সূত্রের খবর, এর পরেই গত রবিবার আচমকা সমন পাঠিয়ে মণিপুরের এনডিএ বিধায়কদের দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়। সোমবারের বৈঠকে মণিপুরের জন্য বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুগকে বিশেষ দায়িত্বও দেওয়া হয়। তার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয় সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিয়ে। সূত্রের খবর, সেই সময়েই মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য মেইতেই জনগোষ্ঠীর ছ’জন বিধায়কের নাম উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত সিংজামেইয়ের বিধায়ক খেমচাঁদ সিংকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়। বিজেপি বিধায়ক থোকচোম রাধেশ্যাম সিং বলেন, ‘আমরা একটা নির্বাচিত ও জনপ্রিয় সরকার পেতে চলেছি। তার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ।’ যদিও কুকিরা সাফ জানিয়েছে, তাঁদের সম্প্রদায় থেকে যথেষ্ট সংখ্যক প্রতিনিধি না থাকলে এই নতুন সরকারকে মানার প্রশ্নই নেই। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব সেই দাবিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে খবর। প্রসঙ্গত, কুকি-মেইতেইদের বিবাদ ঘিরে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে উত্তপ্ত মণিপুর। গোষ্ঠী সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬০ জনেরও বেশি। ঘরছাড়া ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিয়েছিলেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরেই ৬২ বছর বয়সি বিজেপি নেতা খেমচাঁদ তাইকোন্ডোতে ফিফথ-ডান ব্ল্যাক বেল্ট পেয়ে নজির গড়েন। এর আগে কোনো ভারতীয় দক্ষিণ কোরিয়ার তাইকোন্ডো ফেডারেশন থেকে ফিফথ-ডান ব্ল্যাক বেল্ট পাননি। প্রসঙ্গত, খেমচাঁদের নির্বাচনী লড়াইয়ের জীবন শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। সেবার তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। কিন্তু, হেরে যান। পরে যোগ দেন বিজেপিতে। - ফাইল চিত্র