নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানি সামনে থেকে শুনবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের প্রধান বিচারপতি সুযোগ দিলে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে শীর্ষ আদালতে তিনি তাঁর মতও তুলে ধরতে চান। সেই মতো আজ সকাল পৌনে দশটার সময় সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছবেন। আদালত সাধারণত শুরু হয় সাড়ে দশটায়। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি করে মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে শুনানি। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলাটি শুনানি তালিকার ৩৭ নম্বরে রয়েছে। তারই সঙ্গে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলাটিও যুক্ত করা হয়েছে। কমিশনের বিরুদ্ধে কবি জয় গোস্বামীর দায়ের করা মামলাটিও শুনানির জন্য তালিকাবদ্ধ। তাই এসআইআর সংক্রান্ত বাংলার সব মামলাই একত্রে শুনানির আবেদন করবেন তৃণমূলের আইনজীবীরা। মামলায় অভিষেক মনু সিংভি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো আইনজীবীরা সওয়াল করার জন্য তৈরি। একইসঙ্গে মমতাও নিজে বাংলায় এসআইআরের বাস্তব চিত্রর কিছু অংশ তুলে ধরতে চান। ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হিসাবে নন। কারণ, সাংবিধানিক পদে থাকা কোনও ব্যক্তি পদে থেকে আদালতে সওয়াল করতে পারেন না। পদ থেকে সরে গিয়ে সওয়াল-জবাব করা যায়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান, সাধারণ একজন নাগরিক হিসাবে তাঁকে বলতে দিক আদালত। ফলে আজ শীর্ষ আদালতে মমতার উপস্থিতির দিকে চোখ গোটা দেশেরই।অন্যদিকে, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আই-প্যাকের মামলাটি শুনানির জন্য উঠলেও এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট (ইডি) মামলা পিছানোর সময় চাইল। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর আদালতে মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাবদ্ধ ছিল। তবে তার আগেই এদিন সকালে আদালত বসতেই ইডির আইনজীবী তথা কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই মামলায় যে হলফনামা ফাইল করেছে, তা সোমবার অনেক রাতে পেয়েছি। তাই প্রতি হলফনামা ফাইল করার জন্য তা পড়ার সময় দিন। আদালতও আপত্তি করেনি। বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি শুনানি হবে। তৃণমূলের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রতীক জৈনের বাড়ি-অফিসে গত ৮ জানুয়ারি হানা দিয়েছিল ইডি। সেই খবর পেয়েই তৃণমূলনেত্রী সোজা পৌঁছে যান ঘটনাস্থলে। নিয়ে চলে আসেন কিছু ফাইলপত্র। তাই এভাবে এজেন্সির কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্য পুলিশের কয়েকজনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে ইডি। সেই মামলারই শুনানি চলছে।