• জমির ফসল নষ্ট করে গোরু পাচারের চেষ্টা, ৬ বাংলাদেশি দুষ্কৃতীকে গণপ্রহার
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: ছয় বাংলাদেশি গোরু পাচারকারীকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি মাথাভাঙা-১ ব্লকের বৈরাগীরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের জমিরডাঙা এলাকার। মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয়রা বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ওই ব্যক্তিদের সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। কিছু বলতেই পালানোর চেষ্টা করে তারা। ধাওয়া করে ছ’জনকে ধরে ফেলে। চোর সন্দেহে চলে গণপিটুনি। খবর পেয়ে পৌঁছয় মাথাভাঙা থানার পুলিশ। স্থানীয় বর্ডার আউটপোস্টে ডিউটিতে থাকা বিএসএফ আধিকারিকরাও উপস্থিত হন ঘটনাস্থলে। পুলিশ ছ’জনকে উদ্ধার করে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানেই তাদের চিকিৎসা চলছে।জমিরডাঙার বাসিন্দারা বলেন, ঘন কুয়াশার সুযোগে পাচারকারীরা আলু ও তামাক খেত নষ্ট করে প্রায় রাতেই গোরু নিয়ে যাচ্ছে সীমান্তে। এদিন ছ’জন পাচারকারীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মহম্মদ মসিউল, মহম্মদ সার্থক, ওয়াহেদ আলি, আশরাফুল আলম, ফজলুর রহমান, আশরাফুল আলম ওরফে লিটন নামে ছ’জনকে আটক করা হয়েছে। ছ’জনেরই বাড়ি বাংলাদেশের পাটগ্রামে। তাদের সঙ্গে ভারতীয় কোনো ব্যক্তি যুক্ত রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।প্রসঙ্গত, শীতের সময়ে ঘনকুয়াশায় দৃশ্যমান্যতা কমে যাওয়ার সুযোগে সীমান্তে দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পায় পাচারকারীর। বেশকিছু দিন ধরে জমিরডাঙা ও সংলগ্ন এলাকায় আলু ও তামাক খেত নষ্ট করে বাংলাদেশে গোরু পাচার করছে পাচারকারীরা। তাদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।এদিন ভোরে এলাকার এক ব্যক্তি কয়েকজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। প্রতিবেশীদের জানালে তাঁরা ওই ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আচমকাই তারা পালানোর চেষ্টা করে। তাড়া করে তাদের ধরেন স্থানীয়রা। ওই ছ’জনকে মারধরও করেন গ্রামবাসীরা। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী সুধীরচন্দ্র বর্মন বলেন, ভোরে এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা ব্যক্তিদের দেখে স্থানীয়রা প্রথমে জিজ্ঞাসা করে। ওরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাড়া করে ধরা হয়। আটক করা ছ’জনই বাংলাদেশি। কি করে বাংলাদেশি লোকজন এপাড়ে এল বুঝতে পারছি না। আমরাই পুলিশকে জানিয়েছি। জমির ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে পাচারকারীরা। সেই রাগে বাংলাদেশি পাচারকারীদের কয়েকজন চড়, থাপ্পড় মেরেছে।মাথাভাঙা থানার আইসি হেমন্ত শর্মা বলেন, ছ’জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছিল জমিরডাঙা এলাকার লোকজন। আমরা খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ওই ছয় বাংলাদেশি নাগরিক গোরু পাচারকারী। ভারতীয় কে বা কারা এই পাচারকারীদের সঙ্গে যুক্ত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ওই ছ’জন মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে কোনো গোরু উদ্ধার হয়নি।  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাচারকারীরা। - নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)