তৃণমূলের মহিলা ভোটব্যাংকে থাবা বসানোই টার্গেট! ময়নাগুড়িতে স্বাবলম্বী সম্মেলন বিজেপির
বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের মহিলা ভোটব্যাংকে থাবা বসানোই লক্ষ্য বিজেপির। আর সেই টার্গেটকে সামনে রেখে মঙ্গলবার ময়নাগুড়িতে ‘স্বাবলম্বী মহিলা সম্মেলন’ করল গেরুয়া শিবির। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া মহিলাদেরও নিয়ে আসা হয়েছিল সম্মেলনে। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতা এলে আরও বেশি সুযোগ সুবিধা মিলবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয় তাঁদের। এমনকী মহিলারা মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন বলে সম্মেলনে প্রতিশ্রুতি দেয় বিজেপি নেতৃত্ব।যদিও এনিয়ে পাল্টা তোপ দেগেছেন মহিলা তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলার সভানেত্রী নূরজাহান বেগম। তিনি বলেন, মহিলাদের ভুল বুঝিয়ে কিংবা জোর করে যতই বিজেপি ওদের সম্মেলনে নিয়ে যাক না কেন, এতে কিছুই লাভ হবে না। মহিলারা তৃণমূল কংগ্রেসকেই ভোট দেবেন। কারণ তাঁরা জানেন, মহিলাদের জন্য একমাত্র বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ভাবেন।বিজেপির অন্দরের খবর, গ্রামেগঞ্জে তৃণমূলের শক্তিশালী মহিলা ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে না পারলে যে ছাব্বিশের ভোটে আদৌ ভালো ফল করা সম্ভব নয়, সেটা বুঝতে পেরেই এখন মহিলা সম্মেলনে জোর দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে যেসব মহিলা স্বাবলম্বী অর্থাৎ কোনও না কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদেরকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চার সদস্য টিনা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, স্বাবলম্বী মহিলাদের নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলায় এই প্রথম সম্মেলন হল। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে কীভাবে উন্নতি হবে, সরকারের কাছ থেকে কীভাবে তাঁরা বাড়তি সুবিধা পাবেন, সেসব নিয়ে বলা হয়েছে। এটাও জানানো হয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হবে না। বরং বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে তাঁরা মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।বিজেপির জেলা কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্যা রূপা চৌধুরী বলেন, গ্রামগঞ্জের মহিলাদের উজ্জীবিত ও সঙ্ঘবদ্ধ করাই আমাদের টার্গেট। এদিনের সম্মেলনে ভালো সাড়া মিলেছে।সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির মহিলা মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ববিতা তেওয়ারি ও আশা বাজপেয়ী। ছিলেন বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি শ্যামল রায়, দলের মহিলা মোর্চার জেলার কো-অর্ডিনেটর প্রীতি বর্মন। ময়নাগুড়ির ব্যাঙকান্দি থেকে সম্মেলনে যোগ দেন বিজেপির প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যা জ্যোৎস্না রায়। তিনি বলেন, এটা ঠিক, আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাই। আমার মতো অনেকেই এই ভাতা পান। রাজ্য সরকার যখন দিচ্ছে, নেব না কেন? কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়বে, এটাই বোঝাচ্ছি মহিলাদের।মহিলা তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রীর অবশ্য দাবি, বিজেপি যতই মহিলাদের ভুল বোঝানোর চেষ্টা করুক না কেন, বিগত নির্বাচনগুলিতে তাঁরা যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রেখেছেন, এবারও তা অটূট থাকবে। উন্নয়নের পাঁচালিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ সেটাই প্রমাণ করে দিচ্ছে।