• উত্তরবঙ্গে ঘাঁটি বিজেপির ভিনরাজ্যের পর্যবেক্ষকদের
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: আগামী দু’মাসের মধ্যে বাংলায় বিধানসভা ভোট! দু’দিন আগে বাগডোগরায় দলীয় কার্যকর্তা সম্মেলনে এমন ইঙ্গিত দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এমনকী, তিনি ভোট গণনা পর্যন্ত দলীয় কর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উত্তরবঙ্গে বিজেপির কার্যকর্তাদের নজরে রেখেছেন ভিনরাজ্য থেকে আসা  পর্যবেক্ষকরা (প্রভারী)। দলীয় সূত্রে খবর, আদি ও নব্য, লাল ও গেরুয়া পদ্মের ঝামেলা মেটানো,নিষ্ক্রিয়দের ময়দানে নামানো, বুথ মজবুত করাই তাঁদের লক্ষ্য। এজন্য তাঁরা দলের নেতা-কর্মীদের প্রতিটি পদক্ষেপ নজর রাখছেন। বাংলার মাটিতে হিন্দিভাষীদের এমন তৎপরতা নিয়ে দলের অন্দরেই উঠছে প্রশ্ন।কয়েকদিন আগে উত্তরবঙ্গে বিধানসভা ভিত্তিক নামানো হয়েছে বিস্তারক। তাঁরা বাইকে বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্নপ্রান্ত ঘুরে দলীয় রিপোর্ট সংগ্রহ করছেন। এবার ময়দানে নামানো হল প্রভারী অর্থাৎ পর্যবেক্ষকদের। দলীয় সূত্রের খবর, বিজেপির শিলিগুড়ি বিভাগের অধীনে শিলিগুড়ি, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও পাহাড়, এই পাঁচটি সাংগঠনিক জেলা কমিটি। এর অধীনে বিধানসভা কেন্দ্র ২৭টি। যারমধ্যে কোচবিহারে ন’টি, জলপাইগুড়িতে সাতটি, আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিংয়ে পাঁচটি এবং কালিম্পংয়ে একটি কেন্দ্র। প্রতিটিতে নিয়োগ করা হয়েছে একজন করে প্রভারী। এঁদের অধিকাংশই বিহারের বাসিন্দা। তাঁদের কেউ সেই রাজ্যের বিধায়ক, আবার কেউ মন্ত্রী।এরবাইরে ত্রিপুরা ও রাজস্থান থেকেও এখানে প্রভারীরা এসেছেন। আদি ও নব্য এবং লাল ও গেরুয়ার বিভেদ ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন তাঁরা। এমনকী, তাঁরা নিজেরাই গাড়ি নিয়ে পুরনো ও নিষ্ক্রিয় নেতা-কর্মীদের বাড়ি যাচ্ছেন। দলের বুথে সদস্যসংখ্যা, মিছিল, পাড়া বৈঠক, পথসভা প্রভৃতিতে জনতার উপস্থিতির হার, নেতা-কর্মীদের সক্রিয়তা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তাঁরা তা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠাবেন বলে খবর। গত শনিবার শিলিগুড়িতে এবিষয়ে বৈঠক করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসাল ও মঙ্গল পান্ডে। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী অবশ্য বলেন,ওই দলীয় বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। তবে আসন বাড়ানোর টার্গেট নিয়েই আমরা ময়দানে আদা-জল খেয়ে নেমেছি।বঙ্গভূমিতে অবাঙালি এই পর্যবেক্ষকদের তৎপরতা নিয়ে পদ্ম শিবিরের একাংশ বিরক্ত। তাঁদের বক্তব্য, হিন্দিভাষী ওই নেতাদের সঙ্গে সকলের খাপ খাচ্ছে না। ভিনরাজ্যের ওই নেতাদের ঠাঁটবাট আলাদা। সর্বক্ষণ নিরাপত্তারক্ষী। থাকা, খাওয়া নিয়ে আবদারও প্রচুর। ওঁরা এখানকার সংস্কৃতি সম্পর্কেই অবহিত নন। ভাষাগতও কিছু সমস্যা রয়েছে। এতে ভোটের ময়দানে দলের কতটা লাভ হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় তাঁদের।মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, আমাদের দলের অন্যতম পদ ‘প্রভারী’। নির্বাচনের কাজকর্ম তদারকি করাই প্রভারীদের কাজ। তাঁদের সম্পর্কে অপপ্রচার করছে তৃণমূলীরা। আমিও রাজস্থানে নির্বাচনের সময় প্রভারী হিসেবে গিয়েছিলাম। দার্জিলিং জেলা(সমতল) তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী পাপিয়া ঘোষ পাল্টা বলেন, ভিনরাজ্যের নেতাদের নিয়ে দলের গোলমাল আড়াল করতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে বিজেপি।
  • Link to this news (বর্তমান)