নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: এবারের মতো মাধ্যমিকের স্বপ্ন শেষ। দ্বিতীয় পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার কেশপুর ব্লকের আনন্দপুর সন্তোষ কুমারী গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী যশোদা মিদ্যা। মঙ্গলবার ছিল ইংরেজি পরীক্ষা। বাবার বাইকের পিছনে বসে কেশপুর গার্লস হাইস্কুলের পরীক্ষাকেন্দ্রে যাচ্ছিল যশোদা। আনন্দপুর থেকে কেশপুরের পথে লেপসা-পাঁচড়া এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাঁদের বাইক। লরির চাকার নীচে পড়ে গুরুতর জখম হয় যশোদা। জখম হন তার বাবা উজ্জ্বল মিদ্যাও। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’জনকে উদ্ধার করে প্রথমে কেশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যশোদার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে পরে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, যশোদার ডান পা ভেঙে গিয়েছে এবং দ্রুত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া তার পক্ষে আর সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। আনন্দপুর থানা সূত্রে জানা যায়, আনন্দপুর সংলগ্ন এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাস্তার উপর ছিটকে পড়েন বাবা ও মেয়ে। জখম ছাত্রীর বাবা বলেন, একটি চাল বোঝাই লরি ধাক্কা মারে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছি।অন্যদিকে, মঙ্গলবার খড়্গপুর-২ নম্বর ব্লকের মাদপুর গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী রনিতা বেরা হাসপাতালে বসেই পরীক্ষা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, পারিবারিক অশান্তির জেরে শনিবার বিকেলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি তখন বোঝা যায়নি। সোমবার বাংলা পরীক্ষা দেয় রনিতা। পরে মঙ্গলবার রাতের দিকে অসুস্থতা বাড়লে তাকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার হাসপাতালের বেডে বসেই ইংরেজি পরীক্ষা দিচ্ছে সে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের জেলা মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক সুভাষ হাজরা বলেন, আনন্দপুরের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। যশোদার পক্ষে আর পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে হাসপাতালেই রনিতার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। জেলায় মোটের উপর শান্তিতেই পরীক্ষা হয়েছে।