• কেন্দ্রের টাকা না আসায় মুখ থুবড়ে পড়েছে জল জীবন মিশনের কাজ
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: দেড় বছর ধরে নদীয়া জেলায় জল জীবন মিশনের কাজ কার্যত স্তব্ধ। কেন্দ্র সরকারের অর্থ দেওয়া নিয়ে গড়িমসির জেরে বাড়ি বাড়ি জল সংযোগের কাজ মাঝপথে থমকে গিয়েছে বলে অভিযোগ। নদীয়া জেলা প্রশাসন ৮৯ শতাংশ পরিবারে জলের সংযোগ দিয়ে রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থানে থাকলেও, কেন্দ্রের টাকা না আসায় এখনও লক্ষাধিক পরিবার পানীয় জল থেকে বঞ্চিত। গত দেড় বছরে জেলায় প্রায় কয়েকশো কোটি টাকার কাজ বকেয়া। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় সংস্কারের কাজ নামমাত্র চলছে। তাই, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় সংস্কারের কাজ করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে প্রশাসনের অন্দরে। এই নিয়ে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং পিএইচই দপ্তরের মধ্যে বৈঠক হয়েছে।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জল জীবন মিশনের জন্য শেষবার কেন্দ্র সরকার অর্থ বরাদ্দ করেছিল। তারপর প্রায় দেড় বছর কেটে গেলেও নতুন করে টাকা আসেনি। এর ফলে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পাইপ বসানো, রিজার্ভার নির্মাণ এবং জল পরিস্রুত করার প্ল্যান্ট গড়ে তোলার কাজ কার্যত বন্ধ।জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের দাবি, অর্থের অভাবে ঠিকাদারি সংস্থাগুলি কাজ চালিয়ে যেতে পারছে না। বহু এলাকায় পাইপ বসানোর কাজ থমকে রয়েছে, আবার কোথাও অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে জল পরিস্রুতকরণ প্ল্যান্ট। দপ্তরের পরিকল্পনা ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই গোটা প্রকল্প শেষ করার। কিন্তু ২০২৬ সালেও কেন্দ্রের অর্থ না আসায় সেই লক্ষ্য কার্যত ভেস্তে গিয়েছে।প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, নদীয়া জেলায় এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষ ৬২ হাজার বাড়িতে জল সংযোগ পৌঁছেছে। তবে আরও ১ লক্ষ ৩১ হাজার পরিবারে সংযোগের কাজ বাকি। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, কেন্দ্র থেকে টাকা না আসায় এজেন্সিগুলি কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে গোটা প্রকল্পই কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এখন আমরা শুধু মেইনটেন্যান্সের কাজ করছি। বছর খানেক আগে রাজ্য সরকারের তরফে জল সংযোগ ও আনুষঙ্গিক কাজ চালু রাখতে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল।আর্সেনিক প্রবণ নদীয়া জেলায় পানীয় জলের সংকট দীর্ঘদিনের। জেলার ১৮টি ব্লকের মধ্যে ১৬টিতেই ভূগর্ভস্থ জলের স্তর আশঙ্কাজনক ভাবে নীচে নেমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জল জীবন মিশন প্রকল্প জেলাবাসীর কাছে আশার আলো হয়ে উঠেছিল। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে ৮৯ শতাংশ বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হলেও বহু এলাকায় সংযোগ থাকলেও জল না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে কালীগঞ্জ, করিমপুর, নাকাশিপাড়া ও চাপড়ার মতো ব্লকে এই সমস্যা প্রকট। দোগাছি পঞ্চায়েতের বাসিন্দা তন্ময় দাস বলেন, আমাদের এদিকে জলের পাইপ বসানো‌ হয়েছে। কিন্তু জল আসেনি। যার ফলে পাইপগুলোও ক্রমশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, বাংলার প্রতি কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। প্রতি পদে পদে বাংলাকে অপদস্ত করা এবং বাংলার মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করাই দিল্লির সরকারের কাজ। ন্যূনতম প্রাপ্য আটকে রেখে বাংলার মানুষকে শাস্তি দিতে চায় বিজেপি।বিজেপি নেতা সন্দীপ মজুমদার বলেন, কেন্দ্র সরকার কথা দিয়ে কথা রাখে। কিন্তু কেন্দ্র সরকারের নানা প্রকল্প নিয়ে তৃণমূলের নেতারা কীভাবে আর্থিক দুর্নীতি করেছে, সেটা মানুষও বুঝতে পারছে। জল সমস্যাও আমাদের প্রধানমন্ত্রী দ্রুত সমাধান করবেন।
  • Link to this news (বর্তমান)