কৃষকবন্ধু প্রকল্পে পূর্ব বর্ধমানের ৬ লক্ষাধিক চাষির অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ১৮৫ কোটি টাকা
বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সারের দাম বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকার চাষিদের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে। উল্টো পথে হেঁটে রাজ্য সরকার চাষিদের পাশে দাঁড়িয়েছে। রবি মরশুমে কৃষকবন্ধু প্রকল্পে পূর্ব বর্ধমান জেলার ৬ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩৮৪জন চাষি টাকা পেতে চলেছেন। তাঁদের অ্যাকাউন্টে ১৮৪ কোটি ৫২ লক্ষ ২০ হাজার ৩৬০টাকা ঢুকবে। এরমধ্যেই অনেক চাষি টাকা পেয়ে গিয়েছেন। বাকিরাও কয়েক দিনের মধ্যে টাকা পেয়ে যাবেন। আলু চাষের মরশুমে টাকা পেয়ে যাওয়ায় তাঁরা উচ্ছ্বসিত। তাঁরা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারও এভাবে পাশে থাকলে চাষিদের দুর্ভোগে পড়তে হত না। সেটা না করে দিল্লি সারের দাম বাড়িয়েই চলছে। ১০.২৬.২৬ সারের সঙ্গে চাষিদের বাড়তি টাকা খরচ করে অনুখাদ্য কিনতে হচ্ছে। এর পিছনেও কেন্দ্রের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ। তারা অনুখাদ্য উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করছে। সেই কারণেই কোম্পানিগুলি সারের সঙ্গে অনুখাদ্য নিতে ডিলারদের বাধ্য করছে। একই পন্থা নিচ্ছেন অধিকাংশ ডিলার। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, যাঁদের এক একর জমি রয়েছে, তাঁরা পাঁচ হাজার টাকা পাচ্ছেন। যাঁদের জমি কম রয়েছে, তাঁরা ন্যূনতম দু’হাজার টাকা পাচ্ছেন।চাষিরা বলেন, এখন চাষ নিয়ে তেমন দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় না। ফসল নষ্ট হলে শস্যবিমায় টাকা দেওয়া হয়। আবার চাষ করতে কৃষকবন্ধু প্রকল্পে দু’ধাপে টাকা দেওয়া হয়। সরকার ক্যাম্প করে ধান কিনছে। আলুর ফলন বেশি হলে সেটাও তারা কিনছে। খণ্ডঘোষের চাষি মহবুল শেখ বলেন, প্রতিটি চাষি পরিবার কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে। যাঁদের বেশি জমি রয়েছে, তাঁরাও আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন। আবার যাঁদের কম জমি রয়েছে, তাঁরাও প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। সার, বীজ কিনতে সমস্যা হয় না। অপর এক চাষি সৌরভ পাত্র বলেন, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের টাকা পেতে কখনই সমস্যা হয় না। কেন্দ্রীয় সরকার পিএম কিষাণ প্রকল্পে টাকা দেয়। কিন্তু তা সময়ে পাওয়া যায় না। তাছাড়া, সব চাষি প্রকল্পের সুবিধা পান না। আর্থিক সঙ্গতি দেখে টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু রাজ্য সরকার সব চাষিকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা দেয়। এই সময় আলু বা সরষের জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের দরকার হয়। কৃষকবন্ধুর টাকায় তা কিনতে চাষিদের সমস্যা হয় না। অনেকে আবার এই টাকা জমিয়ে অন্য কাজ করেন।কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, প্রকল্পে টাকা দেওয়ার আগে নথি পরীক্ষা করা হয়। তা ঠিক না থাকলে চাষিদের সঙ্গে কথা বলে সংশোধন করা হয়। কোনও চাষির টাকা পেতে সমস্যা হয় না। ধাপে ধাপে কয়েকদিনের মধ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় থাকা সকলেই টাকা পেয়ে যাবেন।