সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: তফসিলি জাতি ও উপজাতির ভোটাররা টার্গেট। তাই নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে বেছে বেছে তাদেরকেই এসআইআরের নোটিস ধরানো হচ্ছে। পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর বিধানসভায় তফসিলি জাতি ও উপজাতির প্রায় ২৬ হাজার ভোটারকে বিভিন্ন কারণে নোটিস ধরানো হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুসারে ওই বিধানসভায় প্রায় ২০ শতাংশ তফসিলি জাতি ও উপজাতির ভোটাররা নোটিস পেয়েছেন। নোটিস পাওয়ার পর কেউ ছোট বাচ্চা কোলে নিয়ে, আবার কেউ গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছেড়ে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের উপর সাধারণ ভোটাররা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনগুলির তরফ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাশীপুর বিধানসভা এলাকায় তফসিলি জাতি ও উপজাতি ভোটার প্রায় ৫০ শতাংশ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী কমলাকান্ত হাঁসদাকে মানুষ ভোট দিয়ে জিতিয়েছিল। বিজেপি প্রার্থী তৃণমূল প্রার্থীর থেকে ৭৩৩৭ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বিজেপি বিধায়ক এলাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় গেরুয়া শিবির লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রে ধাক্কা খায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কাশীপুর বিধানসভায় প্রায় ১৯০০ ভোটে বিজেপি পিছিয়ে যায়। ছাব্বিশের নির্বাচনে বিজেপি আরও বড় ধাক্কা খাবে বলে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি।মঙ্গলবার বাচ্চা কোলে হিয়ারিং লাইনে দাড়িয়ে থাকা আদরি বাস্কে বলেন, বাবার পদবি মুর্মু। বিয়ের পর ভোটার কার্ড করিয়েছিলাম। স্বামীর পদবি অনুসারে ভোটার কার্ড হয়েছিল। ২০০২ সালের ভোটার লিস্টের বাবার নামানুসারে আবেদনপত্র পূরণ করেছিলাম। এখন আমার পদবি এবং বাবার পদবি আলাদা কেন, তার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে।করুণা মল্লিক নামে এক বিধবা বলেন, তিন ছেলের নামে নোটিস এসেছিল। ছোট ছেলে জনার্দন ফর্ম ফিলআপ করে চেন্নাই কাজে চলে গিয়েছে। তার হয়ে নোটিস নিয়ে আমি ব্লকে এসেছি। জানি না কী হবে?অখিল ভারতীয় আদিবাসী বিকাশ পরিষদের পুরুলিয়া জেলা সহ-সভাপতি নির্মল টুডু বলেন, আমরা দেশের আদি বাসিন্দা। অথচ আজ আমাদেরই প্রমাণ দিতে হচ্ছে, আমরা এদেশের বাসিন্দা কি না! এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। হিয়ারিং লাইনে প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও মন্ত্রীকে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। নির্বাচন কমিশনকেই ধিক্কার জানাচ্ছি।যদিও বিজেপি বিধায়ক কমলাকান্তবাবু বলেন, নাম, পদবি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভোটারদের প্রচুর ভুলভ্রান্তি রয়েছে। সেই সমস্ত ভুল ঠিক করার জন্যই নোটিস দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত কোনও ভোটারের নাম বাদ যাবে না। তৃণমূল ভোট রাজনীতি পার হতে মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করছে।তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য রাজ্য সরকার প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তাঁরা পাচ্ছেন। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষ ঝুঁকছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিতে ‘বিজেপি’ নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন নিত্য-নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন ততদিন বিজেপির কোনও কৌশলই কাজে লাগবে না।