জলঙ্গিতে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দাপাদাপি তৃণমূল নেতার, পিস্তল সহ গ্রেপ্তার ব্যাপক শোরগোল
বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, ডোমকল: দুপুরে ভরা বাজারে যে যার মতো কাজে ব্যস্ত। চায়ের দোকানে হঠাৎ ঝামেলা বাধে শাসক দলের দু’জনের মধ্যে। একজন দলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য। অপরজন দলেরই কর্মী। প্রথমে তর্কাতর্কি। পরে একেবারে ‘আগ্নেয়াস্ত্র’ উঁচিয়ে ওই তৃণমূল কর্মীকে ধমকি-শাসানি দিয়ে দাপাদাপি করে ওই তৃণমূল নেতা। সোমবার দুপুরে এমনই অভিযোগে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায় জলঙ্গির ফরিদপুর অঞ্চলের ভিটাপাড়া মাদ্রাসা মোড়ে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সিরাজুল শেখ নামের ওই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জলঙ্গি থানার পুলিশ। পাশপাশি ধৃতের কাছে থেকে একটি ৭ এমএম পিস্তল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতার বাড়ি জলঙ্গির ফরিদপুর অঞ্চলের নতুনপাড়ায়। তিনি স্থানীয় ফরিদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০১৮এর বোর্ডের শাসক দলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। এখনও এলাকায় তার পরিচিতি শাসক দলের দাপুটে নেতা হিসেবেই। সে যাকে অস্ত্র উঁচিয়ে শাসানি দিচ্ছিল, তার নাম বাবর আলি। তিনি পেশায় একজন কোয়াক চিকিৎসক। স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার দুপুরে হটাৎ করেই বাজারে চায়ের দোকানে দু’জনের মধ্যে বচসা বাধে। এলাকায় ভোটের ফলাফল কী হবে, তা নিয়েই তর্ক চলে। পরে হাতাহাতির মধ্যেই সে ওই অস্ত্র বের করে। ঘটনার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)। ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি চায়ের দোকানের সামনে হাতে পিস্তল নিয়ে বাবরের দিকে তেড়ে যাচ্ছে সিরাজুল। অন্যান্যরা, তাদের ছাড়ানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হচ্ছে। এমনকি এক পর্যায়ে গিয়ে ওই তৃণমূল কর্মীর গলায় পর্যন্ত পিস্তল ধরছে সিরাজুল। পুরো ঘটনায় বাবর আলি জলঙ্গি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শেষপর্যন্ত সিরাজুলকে গ্রেপ্তার করে জলঙ্গি থানার পুলিশ।যদিও পুরো ঘটনা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে তেমনভাবে মুখ খুলতে রাজি হননি তৃণমূল কর্মী বাবর আলি। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে একটা ঘটনা ঘটেছে। থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। পুলিশ তদন্ত করুক।এদিকে ঘটনা জানাজানি হতেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ভোটের আগে এলাকায় অস্ত্র এনে অশান্তির বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা করছে তৃণমূল বলে দাবি বিরোধীদের। এমনকি, জলঙ্গির দক্ষিণ জোন ব্লক তৃণমূল সভাপতি আরিফ বিল্লা ও জলঙ্গি বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সিরাজুলের ঘনিষ্ঠতার দাবি তুলেছেন তাঁরা।সিপিএমের টিকিটে জয়ী ফরিদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সাদিয়া আফরিন সরকার বলেন, সিরাজুল আগের টার্মের পঞ্চায়েত সদস্য। আর বাবর মাস কয়েক আগে জলঙ্গি দক্ষিণ জোনের তৃণমূল সভাপতির হাত ধরে যোগ দিয়েছে। ওরা দু’জনই তৃণমূলের লোক। ভোটের আগে এলাকায় অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টির জন্যই এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।যদিও জলঙ্গি ব্লক দক্ষিণ জোনের তৃণমূল সভাপতি আরিফ বিল্লাহ বলেন, ওদের মধ্যে ব্যবসা সংক্রান্ত একটি ঝামেলা হয়েছে। সেই ঝামেলাকেই রাজনৈতিক রং চড়ানো হচ্ছে। আর বাবর তৃণমূল কর্মী হলেও সিরাজুল এখন বাম-কংগ্রেসের হয়ে কাজ করে। অস্ত্র নিয়ে দাপাদাপি। (ইনসেটে) অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। -নিজস্ব চিত্র