সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মুরারইয়ের চাতরা গ্রামে একটি বাড়ি থেকে দুঃসাহসিক চুরির কিনারা করল পুলিশ। ওই বাড়ির ভাড়াটিয়ায় বাথরুম থেকে উদ্ধার হল কয়েক লক্ষ টাকার সোনা ও রুপোর গয়না ও নগদ টাকা। তবে তার আগেই ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা ওই ভাড়াটিয়া সপরিবারে উধাও। পুলিশ ভাড়াটিয়ার খোঁজ শুরু করেছে।বাড়ির মালিকের নাম রেজাউল করিম। গত ২৬ জানুয়ারি তিনি দেখেন, তাঁর ঘরের দরজার তালা খোলা। অথচ দরজার কোথাও এতটুকু আঁচড়ের দাগ নেই। ভিতরে ঢুকে করিম দেখেন, আলমারি ভাঙা। ঘরের আসবাবও ওল্টানো। সেই সঙ্গে গায়েব কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না ও নগদ ৭০ হাজার টাকা। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে রহস্যজনক চুরিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় চাতরা গ্রামে। রেজাউল জানান, ওইদিন বিকেলে এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় পরিবার নিয়ে পাশ্ববর্তী গ্রামে গিয়েছিলেন। ঘরে তালা দিয়ে চাবিটি নীচের তলার ভাড়াটিয়ার কাছে দিয়ে গিয়েছিলেন। এর আগেও একাধিকবার তার কাছে চাবি দিয়ে তিনি অন্যত্র গিয়েছিলেন। সেই অর্থে অত্যন্ত বিশ্বস্ত। কিন্তু ওইদিন রাতে বাড়ি ফিরে ওই অবস্থা দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। পুলিশ তদন্তে নেমে দেখে, তালা ভাঙা হয়নি। ফলে ভিতরের কেউ এই চুরির সঙ্গে যুক্ত এই সন্দেহ হয় তাদের। স্বাভাবিক ভাবেই সন্দেহ গিয়ে পড়ে ভাড়াটিয়ার উপরই। তাকে জেরা করার পাশাপাশি তার বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি। এদিকে পুলিশ টার্গেট করায় রবিবার বাড়ির সমস্ত জিনিসপত্র ফেলে রেখে দরজায় তালা মেরে হঠাৎই গায়েব হয়ে যায় ভাড়াটিয়া। তাতে ভাড়াটিয়ার উপর পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ে।সোমবার রাতে ভাড়াটিয়ার বাড়িতে ফের তল্লাশি চালায় পুলিশ। অবশেষে বাথরুমে ঢুকতেই পুলিশের নজরে আসে একট পুটলি। তা খুলতেই পাওয়া যায় চুরি যাওয়া সমস্ত গয়না ও নগদ টাকা।রেজাউল জানিয়েছেন, গত পাঁচবছর ধরে ঝাড়খণ্ডের ওই বাসিন্দা পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকছিলেন। কোনও কিছু যাচাই না করেই সরল বিশ্বাসে বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন তিনি। সে মুম্বইয়ে শ্রমিকের কাজ করে। মাঝেমধ্যে বাড়ি আসে। কিন্তু এভাবে যে চুরি করবে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি। ২০১৪ সালে বর্ধমানের খাগড়াগড়কাণ্ডে সন্ত্রাসবাদীরা বাড়ি ভাড়া নিয়ে বাস করছিল। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ভাড়াটিয়াদের তথ্য রাখার জন্য সচেতনতা বার্তাও প্রচার করা হয়েছিল। প্রত্যেক বাড়িওয়ালাকে নির্দিষ্ট ফর্ম নিয়ে এসে তা পূরণ করে থানায় জমা দিতে বলা হয়েছিল। তাতে ভাড়াটিয়ার বিশদ বিবরণ, সচিত্র পরিচয়পত্রও দিতে বলা হয়েছিল। যদিও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। -নিজস্ব চিত্র