সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: ছোটবেলাতেই মৃত্যু হয়েছে বাবার। মায়ের উপার্জনে কোনওরকমে সংসার চলে। বাড়িতে নিত্য অভাব। এই পরিস্থিতিতেও নিজের শরীরের ৯০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মনের জোরে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসল নিতুড়িয়ার ছাত্র জিৎ বাউরি। তার দু’টি পা এবং বাম হাত কাজ করে না। সামান্য ডান হাতে একটি লাঠিতে ভর দিয়েই সে পৌঁছে যাচ্ছে পরীক্ষা কেন্দ্রে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সংসারের অভাব দূর করাই তার এখন লক্ষ্য।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিতুড়িয়া ব্লকের রামকানালি গ্রামে জিৎ-এর বাড়ি। সে জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারিয়েছে। তার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায়। বাড়িতে তার দাদা ও দিদি রয়েছে। বর্তমানে সংসারে হাল ধরতে তার দাদা টিউশনি পড়ায়। ছোট থেকে নিজের চোখে সংসারের অভাব দেখে আসছে। তাই জিৎ বুঝেছে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে শিক্ষাই একমাত্র হাতিয়ার। একমাত্র শিক্ষার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমস্ত বাধা অভাব অনটন দূর করা সম্ভব। তাই আগামী দিনে পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।বিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গিয়েছে, জিৎ নিতুড়িয়া ব্লকের জনার্দণ্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। তার মাধ্যমিক পরীক্ষার সেন্টার পড়েছে সাঁতুড়ি থানার রামচন্দ্রপুর শ্রীশ্রী বিজয় কৃষ্ণ আশ্রম বিদ্যাপীঠে। বন্ধুদের সঙ্গে টেম্পো করে আসা-যাওয়া করছে। এক হাতে লাঠির ভর দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে যাচ্ছে।মুখে চওড়া হাসি নিয়ে জিৎ বলে, আমি ৯০ শতাংশ প্রতিবন্ধী। তাই ট্রাই সাইকেল চালাতে পারি না। হাতের লাঠিটাই আমার অবলম্বন। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবার এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা সব সময় পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতে পরিবারের অবলম্বন হয়ে দাঁড়াতে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জনার্দণ্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামলকুমার মণ্ডল বলেন, জিৎ পড়াশোনায় খুব ভালো। ওকে সব সময় বিদ্যালয়ের তরফ থেকে অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী নিতুড়িয়ার ছাত্র জিৎ বাউরি। -নিজস্ব চিত্র