• জামুড়িয়ায় ইডির অভিযানে বাজেয়াপ্ত কয়েক বস্তা টাকা, বুদবুদের ওসির বাড়িতেও অভিযান
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: হালকা শীতের আমেজ গায়ে মেখে আসানসোল, দুর্গাপুরবাসী তখনও বিছানায় আড়মোড়া ভাঙছে। এমন সময়ে গোটা পঁচিশেক এসইউভি গাড়ির বিশাল কনভয় ঢুকে পড়ল খনি অঞ্চলে। আটটি ভাগে ভাগ হয়ে গাড়িগুলি ছড়িয়ে পড়ল দুই মহকুমায়। প্রতি গাড়িতে ইনসাস রাইফেল নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সওয়ার। সঙ্গে ইডির আধিকারিকরা। এদিন দুই মহকুমার আট জায়গায় দিনভর চলে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ। দুর্গাপুর, কাঁকসা, জামুড়িয়া ও রানিগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চলে। তার মধ্যে সদ্য পোস্টিং পাওয়া বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের অম্বুজার অট্টালিকা যেমন ছিল, তেমনই ছিল জামুড়িয়ার এক ব্যবসায়ীর জীর্ণ বাড়ি। সেখান থেকে বস্তা বস্তা টাকা উদ্ধার হয়।ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়লা ও বালির অবৈধ কারবারিদের বিরুদ্ধেই এই অভিযান। এদিন দুর্গাপুরের সেপকো ও কাঁকসা থানার পানাগড় ও ১১ মাইলে ব্যবসায়ীদের বাড়ি ও অফিসে অভিযান চলে। তবে সবচেয়ে বেশি সরগরম ছিল জামুড়িয়া। জামুড়িয়া হাটতলার কাছে বনশল পরিবারের জীর্ণ বাড়ি রয়েছে। ভাঙাচোরা গলি পেরিয়ে সেই বাড়ির সামনে হাজির হন আট কেন্দ্রীয় জওয়ান ও চার ইডি আধিকারিক। স্থানীয়রা জানতেন, বনশল পরিবারের হার্ডওয়্যারের বড়ো কারবার রয়েছে। যদিও ইডি সূত্রে খবর, কয়লা অবৈধ কারবার এবং কালো টাকা সাদা করার কাজে যুক্ত এই পরিবার। ওই বাড়িতে বস্তা বস্তা টাকা পান ইডি আধিকারিকরা। এরপরই জামুড়িয়া এসবিআই ব্রাঞ্চ থেকে দু‌ই আধিকারিক ও টাকা গোনার মেশিন নিয়ে আসে ইডি। বিকেল পর্যন্ত চলে টাকা গোনা ও নথি যাচা‌ইয়ের কাজ। পরে বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে তিনটি বস্তা নিয়ে দ‌ু‌ই ব্যাঙ্ক কর্মী ও এক ইডির আধিকারিক রওনা দেন। প্রকাশ্যে না বললেও সূত্রের খবর, আশি লক্ষের বেশি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এনিয়ে ব্যবসায়ী পরিবারের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। জানা গিয়েছে, রাজেশ বনশলের বিরুদ্ধে কয়লা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দুই ভাইপো অমিত ও সুমিতের বিরুদ্ধে কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ রয়েছে। একটি সূত্রে দাবি, অবৈধ কয়লা ও তার লেনদেনে ফ্যাক্টরি কর্তাদের সঙ্গে মাফিয়াদের মধ্যস্থতা করত বনশলরা।অন্যদিকে, বুদবুদ থানায় সদ্য পোস্টিং পাওয়া মনোরঞ্জন মণ্ডল বারাবনি থানার ওসি থাকাকালীন সাসপেন্ড হয়েছিলেন। থানায় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির জন্মদিন পালনের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি সম্প্রতি বুদবুদ থানার ওসি হিসাবে পোস্টিং পান। মনোরঞ্জনের বাড়িতে ইডির অভিযানে বহু পুলিশ অফিসারই উদ্বেগে পড়েছেন বলে পুলিশ সূত্রেই জানা যাচ্ছে। এদিকে কাঁকসা থানা এলাকা বালি কারবারের স্বর্গরাজ্য। সেখানেই বালি কারবারি গৌতম দেবনাথ, হাসেম মির্জার বাড়িতে ইডি হানা দেয়। একটি অফিসেও ইডি হানা দেয়। তাঁদের দাবি, বালি, কয়লা সিন্ডিকেটের অফিস ছিল এটি। এদিন বালি কারবারি প্রবীর দত্তের দুর্গাপুরের বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। পাণ্ডবেশ্বরের ব্যবসায়ী মইজুল শেখ ও রানিগঞ্জের কিরণ খাঁয়ের বাড়িতেও ইডি অভিযান চালায়।
  • Link to this news (বর্তমান)