• সামাজিক সুরক্ষায় জোর দিয়েই কাল রাজ্য বাজেট পেশ, সুরাহার আশায় সরকারি কর্মীরাও
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ বাদে কাল রাজ্য বাজেট। আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে ভোট অন অ্যাকাউন্ট। কারণ শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। তাই বঙ্গবাসী এবার তাকিয়ে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই। মুখ্যমন্ত্রী এবারও তাঁর রাজ্যকে নিরাশ করবেন না বলে সূত্রের খবর। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিকে সামনে রেখে বাংলার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি চাঙা করার লক্ষ্যেই তিনি বাজেট সাজাচ্ছেন। পরিকাঠামো উন্নয়নে রাস্তাঘাটের কাজ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-বার্ধক্য ভাতার মতো প্রকল্পে জোর—আসন্ন রাজ্য বাজেটে সরকারের নজর এই অভিমুখেই। বিভিন্ন দপ্তরের আনাচে কানাচে যা চর্চা চলছে, তাতে সরকারি কর্মীরাও বাড়তি কিছু সুরাহার আশায় রয়েছেন। গত তিনটি বাজেটের মতো এবারও ডিএ বৃদ্ধির জল্পনায় বুক বাঁধছেন তাঁরা।কেন্দ্রের অপেক্ষায় না থেকে রাজ্যের হাল টেনে নিয়ে যাওয়ার নানাবিধ জল্পনায় ইন্ধন জুগিয়েছে অবশ্যই সম্প্রতি সিঙ্গুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হুংকার—‘আমরা কারও ভিক্ষা চাই না। বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়াবে রাজ্য সরকারই।’ এই বার্তার ছায়াই বাজেটে পড়তে চলেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। সেক্ষেত্রে রাজ্যের সার্বিক বাজেট বরাদ্দ সাত থেকে আট শতাংশ বৃদ্ধির জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জানা যাচ্ছে, রাজ্যের সব থেকে বড়ো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাবও বাজেটে পেশ হতে পারে। ২০২১ সালে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সে বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই প্রকল্পটি চালু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। গত পাঁচ বছরে শুধুমাত্র এই প্রকল্পের মাধ্যমেই মহিলাদের হাতে ৭৪ হাজার কোটি টাকার নগদ জোগান নিশ্চিত করেছে রাজ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা। এবার এই অঙ্ক কতটা বাড়ে, সেদিকেই নজর সব মহলের। এছাড়াও সামাজিক সুরক্ষা প্রদানের সঙ্গে জড়িত অস্থায়ী কর্মীদের জন্যও বেশ কিছু সুবিধা দেওয়ার চিন্তাভাবনা রাজ্যের রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও কেন্দ্র বাংলার ২ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি আটকে রেখেছে। বাড়ছে না কেন্দ্রীয় করে রাজ্যের ভাগের হারও। ফলে রাজ্যের কোষাগারের উপরে চাপ বাড়াটাই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব ঘাটতি সামাল দিতে এফআরবিএম আইনের অধীনে থেকেই ঋণের পথে রাজ্য হাঁটছে বলে সূত্রের খবর।২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর, জুলাই মাসের চূড়ান্ত বাজেটে তা দাঁড়িয়েছিল ৩ লক্ষ ৮ হাজার ৭২৭ কোটি টাকায়। ২০২১ সালেও অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ হয়েছিল ৫ ফেব্রুয়ারি। ছাব্বিশের ভোটের আগেই সেই ৫ ফেব্রুয়ারিই পেশ হবে ভোট অন অ্যাকাউন্ট। ফলে আগেরবারের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এবারও বাংলার মানুষকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনমুখী বাজেট উপহার দিতে চলেছেন বলেই মত রাজনৈতিক তথা প্রশাসনিক মহলের।
  • Link to this news (বর্তমান)