রাস্তায় পার্ক করা গাড়ির কাচ ভেঙে চুরি, অকুস্থল প্রিন্সেপ-জাজেস ঘাট খোয়া যাচ্ছে বাইকে লক থাকা হেলমেটও
বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার বিকেল। স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে প্রিন্সেপ ঘাট চত্বরে ঘুরতে গিয়েছিলেন গৃহকর্তা। গঙ্গাপাড়ে রাস্তার ধার ঘেঁষে পার্ক করেছিলেন চারচাকা গাড়ি। ব্যাগপত্র সব গাড়ির ভিতরে রেখে সব দরজার কাচ তুলে লক করে দিয়েছিলেন। এদিক-ওদিক ঘুরে ঘণ্টা আড়াই পর ফিরে আসতেই তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ! গাড়ির একটি দরজার কাচ ভাঙা। ভিতরে যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙা কাচের টুকরো। পিছনের সিট ও পার্সেল ট্রে থেকে গায়েব গৃহকর্ত্রীর ব্যাগ সহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী। ভাঙা দরজা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ভারী কোনো বস্তু দিয়ে সজোরে আঘাত করা হয়েছে।এমন ঘটনার কথা লোকজনের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়তেই গঙ্গাপাড়ে মনোরম বিকেল কাটানো মাথায় উঠল অনেকের! তড়িঘড়ি তাঁরা ছুটে এলেন যে যার গাড়ি বা বাইক ঠিক আছে কি না দেখতে। তখন জানা গেল, আশপাশের আরও চারটি গাড়ির একই অবস্থা। সবক’টি গাড়িরই পিছনের বাম দিকের দরজার কাচ ভাঙা। চুরি হয়েছে ব্যাগ সহ অন্যান্য সামগ্রী। একজনের মোবাইল ফোনও খোয়া গিয়েছে। তার থেকেও বেশি ক্ষতি হয়েছে গাড়ির কাচ ভাঙার জন্য! প্রতিটি গাড়ি মেরামতিতে ১০ হাজারের বেশি টাকা খরচ হতে পারে বলে জানান চালক।কোনো এক রবিবারের বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়! গত বেশ কয়েকটি শনি ও রবিবার প্রিন্সেপ ঘাট ও জাজেস ঘাটের সামনের রাস্তায় গাড়ি থেকে এভাবেই চুরি হচ্ছে। একাধিক দিন ৪-৫টি গাড়ি ভাঙা ও চুরির অভিযোগ জমা পড়েছে দক্ষিণ বন্দর থানায়। শুধু গাড়ি নয়, দুষ্কৃতীদের টার্গেট বাইকে লক করে রাখা হেলমেটও। বাইকে হেলমেট লক করে রাখলেও স্ট্র্যাপ কেটে নিয়ে চলে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। গত কয়েকদিনে সাতজন বাইক চালক এমনই অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্নেহাল চক্রবর্তী নামে এক বাইক চালকের কথায়, ‘বান্ধবীকে নিয়ে জাজেস ঘাটের দিকে এসেছিলাম। সিটের নীচে হেলমেটের স্ট্র্যাপ লক করে রেখে গিয়েছিলাম। ফেরার সময় দেখি, হেলমেট উধাও। স্ট্র্যাপ কাটা অবস্থায় ঝুলছে।’সবক’টি অভিযোগের তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে লাগাতার এই ধরনের ঘটনায় পুলিশি নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রিন্সেপ ঘাট থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত রাস্তায় সিসি ক্যামেরার সংখ্যা সীমিত। তাই সর্বক্ষণের নজরদারিও কম। তদন্তকারীরা মনে করছেন, সেই সুযোগই পুরোদমে কাজে লাগাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। লালবাজারের দাবি, চক্ররেলের লাইন বরাবর অনেক নেশাখোর ঘোরাফেরা করে। নেশার রসদ জোগাড়ের জন্য তারা এসব করতে পারে। তাই গঙ্গাপাড়ের রাস্তা বরাবর টহলদারি বাড়াচ্ছে পুলিশ।