• পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল কর্মাধ্যক্ষ বিজেপি সদস্য?
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তৃণমূল পরিচালিত বারাসত-২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ বিজেপির সদস্য! কর্মাধ্যক্ষ আসের আলি মল্লিকের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ সম্বলিত নথি ‘ভাইরাল’ (যাচাই করেনি বর্তমান) হয়েছে সমাজমাধ্যমে। সোমবার রাতে প্রথম ভাইরাল হয় আসের আলির বিজেপি মেম্বারশিপ কার্ডটির ছবি। এরপর সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মেহেদি হাসান পোস্ট করেন সেই আবেদনপত্র, যা পূরণ করে পদ্মপার্টির স্থানীয় মণ্ডল-২’এর সদস্য হয়েছিলেন আসের আলি।  বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তুমুল রাজনৈতিক আলোড়ন শুরু হয়েছে বারাসত-২ নম্বর ব্লক তথা হাড়োয়া বিধানসভা এলাকায়। তবে কি সিঙ্গল ফুলের এজেন্ট হয়ে জোড়াফুলের ঘরের খবর পাচার? খতিয়ে দেখছে তৃণমূল নেতৃত্ব।পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের ‘বিজেপি যোগ’ সংক্রান্ত বিতর্ক ঘিরে টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, বারাসত ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্লক তৃণমূল সভাপতিকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অন্দরে বিভাজন চলছিল। জেলা নেতৃত্ব সেই বিভাজন কমিয়ে আনতে কাজকর্মও শুরু করেছে। কিন্তু বাস্তবে সংগঠনের ভিতরে কোন্দল যে এখনও বজায় রয়েছে, তার প্রমাণ মিলেছে সোমবার। ব্লক সভাপতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বারাসত ২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আসের আলিকে ঘিরে দলের একাংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ জমছিল। এদিন তা প্রকাশ্য রূপ নেয়। অভিযোগ, এদিন পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মেহেদি হাসানের সঙ্গে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আসের আলি মল্লিকের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় হাড়োয়ার বিধায়ক রবিউল ইসলাম দু’পক্ষকে নিয়ে রাতেই বৈঠকে বসেন।  তবে সেই বৈঠক কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি বলেই দলীয় সূত্রের দাবি। বৈঠকের মধ্যেই দু’পক্ষ একে অপরকে ‘বিজেপির দালাল’ বলে তকমা সেঁটে দেয়। এই অভিযোগ ঘিরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান সমিতির সহ-সভাপতি মেহেদি হাসানের লোকজন।এই পর্বেই বৈঠক ভাঙার কিছুক্ষণের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় বিজেপির সদস্যপদ সংগ্রহ সংক্রান্ত একটি ফর্ম ও একটি সদস্য কার্ড। কার্ডে পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আসের আলির ছবি রয়েছে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আবেদনপত্র, যাতে সই রয়েছে আসের আলির, তা পোস্ট করেন মেহেদি। তাঁর দাবি, বিজেপির সঙ্গে কার যোগাযোগ রয়েছে, তা প্রকাশ্যে এসেছে। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, উম-পুন পরবর্তী ত্রিপল বণ্টন সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ও সামনে আনা হবে।এনিয়ে মেহেদি বলেন, বৈঠকে তাঁকে বিজেপির লোক বলে আক্রমণ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের জবাব সেখানেই দিয়েছেন তিনি। পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আসের আলি মল্লিক এনিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন, তিনিই বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারবেন।
  • Link to this news (বর্তমান)