• সংস্কার না হলে ‘বিপজ্জনক’ বাজার বন্ধ, যাচ্ছে নোটিস
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শ্যামবাজারের অমিয়বাবুর বাজার, ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজার বা কালীঘাট মন্দির সংলগ্ন কালীঘাট বাজার। পুর-বাজারের পাশাপাশি শহরজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এমন অনেক বেসরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বাজার। এরকম একাধিক বেসরকারি বাজারের ভগ্নদশা। তার মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে বিকিকিনি। প্রাণ হাতে নিয়ে বাজার বসছে রোজ। বাজারের ভবন সংস্কারের জন্য কলকাতা পুরসভার তরফে এসব বেসরকারি বাজারের মালিকপক্ষকে সতর্ক করা হলেও লাভ হয়নি। তাই এবার কড়া পদক্ষেপ করছে পুরসভা। বৃহস্পতিবার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বেসরকারি বাজারগুলিকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। সংস্কারের কাজ না করলে বাজার বন্ধ করে দেওয়া হবে। কারণ, সবকিছুর আগে মানুষের জীবন।বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা বাড়ি ও বাজার নিয়ে পুরসভার ভূমিকা কী, এদিন পুরসভার মাসিক অধিবেশনে সেই প্রশ্ন তোলেন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ডাঃ মীনাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর এলাকার শ্যামবাজার অঞ্চলে অমিয়বাবুর বাজারের বেহাল দশা নিয়ে তিনি আগেও প্রশ্ন করেছিলেন। যার প্রেক্ষিতে মেয়র বলেন, ‘পুরসভার বাজারগুলি সংস্কার করা হচ্ছে। কিন্তু, বেসরকারি বাজারে আমরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারি না। তবে তাদের অনেককে বারবার বোঝানো হয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে বেসরকারি মালিকানাধীন যদুবাবাবুর বাজারের কথা উল্লেখ করেন ফিরহাদ। বলেন, ‘ওদের মালিকপক্ষের সঙ্গে বারবার আলোচনা হয়েছে। দ্রুত মেরামত করতে বলা হয়েছে। কিন্তু, এখনো কোনো সদর্থক পদক্ষেপ করা হয়নি। এই অবস্থায় এমন বিপজ্জনক বেসরকারি বাজারগুলির তালিকা বিল্ডিং বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। তারা নোটিস পাঠানো শুরু করেছে। বলে দেওয়া হয়েছে, সংস্কার না করলে বাজার বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনের মধ্যে থেকে সবরকম  সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। পুরানো বাজার ভেঙে নতুন বানালে বিল্ডিং আইনে বাড়তি এফএআর (ফ্লোর এরিয়া রেশিও) দেওয়া হবে। চাইলে মালিকপক্ষ বাড়তি তল তৈরি করতে পারবে। কিন্তু কোনোভাবেই মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা চলবে না। বাজার সংস্কার করতেই হবে।’যদুবাবুর বাজারের সমস্যা সম্পর্কে স্থানীয় কাউন্সিলার তথা মেয়র পারিষদ অসীম বসু বলেন, ‘ওই বাজারের মালিকানার অংশীদার অনেক। অনেক আলোচনার পর ওঁরা সর্বসম্মতিক্রমে একটা রফাসূত্রে এসেছেন। শীঘ্রই পুরসভাকে ওঁরা চিঠি দেবেন বলে শুনেছি।’সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে বউবাজার মার্কেট, যদুবাবুর বাজার সহ বেশ কয়েকটি বেসরকরি বাজার কর্তৃপক্ষকে নোটিস ধরানো হয়েছে। বউবাজার এলাকার কাউন্সিলার বিশ্বরূপ দে বলেন, ‘বউবাজার মার্কেটের অবস্থা খুবই খারাপ। এর আগে একাধিক বার চাঙড় খসে পড়েছে। এই বাজারগুলি সত্যিই দুশ্চিন্তার কারণ।’ কালীঘাট অঞ্চলের কাউন্সিলার প্রবীরকুমার মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘কালীঘাট মন্দির সংলগ্ন এই বেসরকারি বাজারের মালিককে বারবার সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। প্রাণ হাতে নিয়ে রোজ বাজার চলে। কিছু একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেলে আর রক্ষে থাকবে না। পুর-প্রশাসনের কঠোর অবস্থান নেওয়াই দরকার।’  অমিয়বাবুর বাজার। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)