• ভস্মীভূত পরীক্ষার্থীর বাড়ি, ভ্যানে বসে অসুস্থ ছাত্রীর পরীক্ষায় বিতর্ক
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: মাধ্যমিক পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনও কাটল নির্বিঘ্নে। তবে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে পুড়ে গিয়েছে এক পরীক্ষার্থীর বাড়ি। পুড়ে গিয়েছে বইখাতা। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি ঘটে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর থানার দিঘড়া গ্রামে। দমকল আসার আগেই স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নিভে যায়। পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে এমন ঘটনায় প্রবল বিপাকে প্রিয়াঙ্কা দাস। মঙ্গলবার ছিল তার ইংরেজি পরীক্ষা। সকালে পরীক্ষা দিতে বাড়ি থেকে বের হয় সে। কিছুক্ষণ পরে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন ধরে যায় রান্নাঘরে। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাড়িতে। পুড়ে গিয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বইখাতা ও নগদ টাকা। প্রিয়াঙ্কা বলে, দুটো পরীক্ষা হল। বাকি পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে নেব বুঝে উঠতে পারছি না।জখম এক ছাত্রীকে ভ্যানে বসে পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ছাত্রীর ঠাঁই হল না স্কুল ঘরে। ভ্যানে বসেই পরীক্ষা দিতে হয় শ্রাবণী মণ্ডলকে। বারুইপুর গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী সে। তাকে বারুইপুর রানা বেলিয়াঘাটা হাইস্কুলে এসে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে হয় ভ্যানে বসে। সোমবার পরীক্ষা দিয়ে মায়ের স্কুটারে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় জখম হয় ওই ছাত্রী। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালেও নিয়ে যেতে হয় তাকে। চিকিৎসার পর পরীক্ষা দিতে যায় সে। স্কুল কর্তৃপক্ষ কেন তার জন্য ঘরের ব্যবস্থা করল না অভিভাবকরা সেই প্রশ্ন তুলেছেন। পরীক্ষার্থীর ছবি তুলতে গেলে সংবাদ মাধ্যমকে বাধা দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ নাইয়া বলেন, ওই পরীক্ষার্থীর জন্য ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু ওর শারীরিক অবস্থার জন্য ভ্যানে বসে পরীক্ষা দিয়েছে।সোমবার পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাইক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তার জন্য রাইটারের ব্যবস্থা করল। হাওড়ার শ্যামপুর নয়নচন্দ্র বিদ্যাপীঠের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কুন্তল খাঁড়ার সিট পড়েছিল শশাটি নহলা কাঁঠালদহ অবিনাশ হাইস্কুলে। মঙ্গলবার সে ভালোভাবে ইংরেজি পরীক্ষা দিয়েছে। পঞ্চগ্ৰাম প্রমথনাথ হাইস্কুলের ছাত্রী জুলেখা খাতুন পরীক্ষা দেওয়ার সময় আচমকা শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরীক্ষকরা ঝুঁকি না নিয়ে তাকে ডায়মন্ডহারবার হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সেখানেই পরীক্ষা শেষ করেছে ওই ছাত্রী। এছাড়া মন্দিরবাজার ব্লকের সাউথ বিষ্ণুপুর গার্লস হাইস্কুলের এক ছাত্রীও পরীক্ষা দিতে দিতে অসুস্থ বোধ করলে তাকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পরীক্ষা দিয়েছে সে। হুগলির পুইনানে পরীক্ষা দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে এক ছাত্রী। নাম সামিরুন খাতুন। পরে সে পোলবা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বসে পরীক্ষা দেয়। এদিকে, এদিন মাধ্যমিক পরীক্ষা কেমন হচ্ছে সেটা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ডায়মন্ডহারবারের পারুলিয়া ও ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লকের দুটি স্কুলে যান মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়।
  • Link to this news (বর্তমান)