• প্যাকেট বোঝাই শাড়ির ভাঁজে মাছরাঙার পালক চীনে পাচার! , বারুইপুর পোস্ট অফিস থেকে গ্রেপ্তার যুবক
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বারুইপুর: বড় বড় প্যাকেটে দামি শাড়ি ভরতি। আর সেই শাড়ির ভাঁজে সাজিয়ে রাখা হয়েছে মাছরাঙা পাখির পালক! প্যাকেট দেখে সন্দেহ হয় বারুইপুর পোস্ট অফিসের কর্মীদের। ওই প্যাকেট পোস্ট অফিসে নিয়ে আসা যুবককে আটক করে বারুইপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে পাচারকারী সন্দেহে যুবককে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের হেপাজত থেকে উদ্ধার হয়েছে মাছরাঙার পালক লুকিয়ে রাখা প্রায় ৪১টি প্যাকেট। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম মিনাতুল্লা নেগাবান। বাড়ি ঢোলাহাট থানার উত্তরাবাদে। এই মাছরাঙার পালক চীনে পাঠানোর জন্য পোস্ট অফিসে এসেছিলেন তিনি। পুলিশের জেরায় এমনই দাবি করেছেন ধৃত। তাঁকে বারুইপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।সোমবার বিকেলে এক যুবককে বেশ কয়েকটি প্যাকেট নিয়ে পোস্ট অফিসে ঢুকতে দেখে সন্দেহ হয় ডাকঘরের কর্মীদের। কাউন্টারে গিয়ে তাঁর মালপত্র পাঠানোর জন্য তাড়াহুড়ো করছিলেন তিনি। তখন তাঁকে একটি ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে আটক রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ আসতেই প্যাকেট রহস্যের সমাধান হয়। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, মাছরাঙার পালক এর আগে আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও পাঠিয়েছেন অভিযুক্ত। তিন বছর ধরে তিনি এই কারবার চালাচ্ছেন। ঢোলাহাটের বাড়িতে গৃহশিক্ষকতা চালালেও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিভিন্ন ব্যবসার ভিডিও দেখতেন তিনি। বিদেশে বিভিন্ন জিনিস পাঠিয়ে টাকা আয়ও লক্ষ্য ছিল তাঁর। পুলিশ আরও জেনেছে, প্রথমে মুরগির পালক একইভাবে বিদেশে পাঠিয়েছেন তিনি। তখনই কেন পোস্ট অফিসের কর্মীদের নজরে পড়ল না বিষয়টি, সেই প্রশ্নও উঠছে। কীভাবে তিনি মাছরাঙা পাখির পালক জোগাড় করতেন?  তদন্তকারী অফিসারদের কাছে ধৃত দাবি করেছেন, বিহার থেকে একজনের মাধ্যমে পালক আনানো হত। এই তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আরও খবর, প্রতি প্যাকেট পাখির পালকে ৮০০ টাকা করে লাভ করেন মিনাতুল্লাহ। এর আগে মুরগির পালক বিদেশে পাঠিয়ে আনুমানিক ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন বলেও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই পাচারের কারবারের সঙ্গে আরও লোকজন জড়িত রয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তবে ঠিক কী কাজের জন্য এগুলি বিদেশে পাচার হয়, তা এখনও স্পষ্ট নয়।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)