• মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষাকর্মী, বাধা দিয়ে শিক্ষকদের হাতেই প্রহৃত স্কুল পরিদর্শক!
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাধ্যমিকের দ্বিতীয় দিনে অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটল পূর্ব বর্ধমানের আঝাপুর হাইস্কুলে। এদিন ছিল ইংরেজির (দ্বিতীয় ভাষা) পরীক্ষা। অভিযোগ, এই পরীক্ষা কেন্দ্রে এক গ্রুপ ডি কর্মীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করতে গিয়ে শিক্ষকদের হাতেই ব্যাপক মার খেলেন অফিসার-ইন-চার্জ প্রশান্ত কবিরাজ। তিনি জামালপুর ইস্ট সার্কেলের স্কুল পরিদর্শক (এসআই)। তাঁর একটি চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। আঘাত লেগেছে মাথায় এবং শরীরের অন্যত্রও। তিনি বর্তমানে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সময় স্কুলের সিসিটিভিগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে, তার আগেই যেটুকু ফুটেজ মিলেছে, তার ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষকসহ মোট সাতজন শিক্ষক এবং ওই গ্রুপ ডি কর্মীকে সাসপেন্ড করতে চলেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। অর্থাৎ সাসপেন্ড করা হচ্ছে মোট আটজনকে। স্কুল পরিদর্শকের বক্তব্য, সোমবারও পরীক্ষার তদারকি করে বেরিয়ে আসার সময় এক শিক্ষককে ফোনে কথা বলতে শোনেন তিনি। তবে, তাঁকে হাতেনাতে ধরতে পারেননি। এমনকি, শিক্ষকদেরও বেশ দায়সারাভাবে গার্ড দিতে দেখা গিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক অসীমকুমার বিশ্বাসকেও তিনি জানান।পরিদর্শক এদিন যখন স্ট্রংরুমে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বসেছিলেন, তখনই পাশের স্টাফরুমে একটি ফোন বেজে ওঠে। তিনি সেখানে গিয়ে ওই কর্মীর হাত থেকে সেটি নিতে গেলে তিনজন শিক্ষক তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। পর্ষদ মনোনীত সদস্য যখন সেটি ভিডিয়ো করার চেষ্টা করেন। তখন তাঁর মোবাইলটি কেড়ে নেওয়া হয়। এই ব্যাপারে তিনি ফোন করেন বিডিওকে। পরে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। কাছাকাছি একটি নার্সিংহোমে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। এরপর তাঁকে ভরতি করা হয় মেডিকেল কলেজে। সবশেষে হাতে লেখা একটি অভিযোগপত্র নিয়ে অন্য স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক থানায় যান। কিন্তু ‘এখন ওসি নেই’ জানিয়ে থানা সেটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। আরো বলা হয়, অভিযোগকারী সশরীরে এলে তবেই এফআইআর নেওয়া হবে। প্রশান্তবাবু বলেন, ‘সরকারি কাজে গিয়ে এভাবে আক্রান্ত হলে তো সবাই কাজ করতেই ভয় পাবেন।’পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘ঘটনাটির প্রাথমিক রিপোর্ট পেয়েছি। তার ভিত্তিতে আটজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। আপাতত ওই স্কুলে পরীক্ষা চালু রাখতে ডিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বুধবার ওই স্কুলে পর্ষদের প্রতিনিধিরা যাচ্ছেন। পরীক্ষাগ্রহণে কোনোরকম বিঘ্ন ঘটতে দেওয়া হবে না। এজন্য অন্য স্কুল থেকে শিক্ষক ও কর্মী আনা হবে সেখানে।’পশ্চিমবঙ্গ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ দেবনাথ বলেন, ‘কর্তব্যরত সরকারি আধিকারিকের উপর হামলার জন্য বিএনএস-এর উপযুক্ত ধারাতেই দোষীদের বিচার করা হোক।’ ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওই এসআই বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের স্কুলকে টার্গেট করেছেন। এদিন এক কর্মী ভুল করে মোবাইল আনার পর সেটি আমার ঘরে এনে রাখি। তবে সুইচ অফ করতে ভুলে গিয়েছিলাম। ফোনটি বেজে উঠতেই এসআই চিৎকার জুড়ে দেন। সেই নিয়েই বাধে বচসা। তাঁর গায়ে হাত তোলা হয়নি।’এদিন উত্তর ২৪ পরগনার ডিএনএকে ইউনিয়ন হাইস্কুলে নবপল্লি বিদ্যাপীঠের এক পরীক্ষার্থী, বীরভূমের কাইজুলি হেমচন্দ্র হাইস্কুলে মালাডাঙ এসবি হাইস্কুলের এক পরীক্ষার্থী, মুর্শিদাবাদের গোবর্ধনডাঙ্গা হাইস্কুলে গৌরীপুর হেমাজুদ্দিন হাইস্কুলের এক পরীক্ষার্থী, কলকাতার দেশবন্ধু বিদ্যালয়ে বেলগাছিয়া উর্দু হাইস্কুলের এক পরীক্ষার্থী এবং পশ্চিম বর্ধমানের বিধাননগর গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড বয়েজ হাইস্কুলের পার্শ্ববর্তী একটি স্কুলের পরীক্ষার্থী মোবাইলসহ ধরা পড়ে। তাঁদের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা স্বর্ণময়ী গার্লস স্কুলে দুই পরীক্ষার্থী ভুল করে মোবাইল এনেছিল। আগাম সতর্কবার্তা শুনেই সে-দুটি তারা জমা দেয়। তাই তাদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে পথদুর্ঘটনার জেরে এক ছাত্রী এদিন পরীক্ষাই দিতে পারেনি।
  • Link to this news (বর্তমান)