নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অর্ডার মাফিক খাবারের পরিবর্তে গো-মাংস পরিবেশন করেছিলেন পার্ক স্ট্রিটের এক নামী রেস্তরাঁর কর্মী। গ্রাহকের কাছে তা নিয়েও ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ বলে স্বীকারও করে নেন সেই কর্মী। কিন্ত, তাতেও ক্ষান্ত হননি নেটদুনিয়ায় ‘ইনফ্লুয়েন্সার’। সেই ‘লঘু দোষে গুরু শাস্তি’ মাথায় নিয়ে চারদিন শ্রীঘরে থাকতে হল রেস্তরাঁ কর্মীকে। মঙ্গলবার জেল হেফাজত শেষে অভিযুক্তকে ফের ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক অভিযুক্ত রেস্তরাঁ কর্মীকে একহাজার টাকার বন্ডে জামিনের আর্জি মঞ্জুর করেছেন।৩০ জানুয়ারি পার্ক স্ট্রিটের একটি নামী রেস্তরাঁয় খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অর্ডার মাফিক খাবার পরিবেশন করতে ভুল হয় রেস্তরাঁ কর্মীর। গোমাংস পরিবেশন করায় ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় গোটা ঘটনাটির ভিডিও করে পোস্ট করেন। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার নেশায় এখানেই ঘটনা শেষ করেননি তিনি। ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’-এর স্বীকারোক্তিকে পাত্তা না দিয়ে রেস্তরাঁ কর্মীর ধর্ম খুঁজে বিষয়টিকে ‘ইচ্ছাকৃত’ বলে নেটদুনিয়ায় প্রমাণের চেষ্টা করেন সায়ক। এমনটাই দাবি, নেটিজেনদের একাংশের। সেই ঘটনার পর পার্ক স্ট্রিট থানায় রেস্তরাঁ কর্মীর নামে লিখিত অভিযোগ করেন ইনফ্লুয়েন্সার। তার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার হন তিনি।রেস্তরাঁ কর্মী গ্রেপ্তার হওয়ার পরই প্রতিবাদে গর্জে ওঠে নেট দুনিয়ারই একাংশ। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলে পার্ক স্ট্রিট থানায় সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ৪টি অভিযোগ জমা পড়ে। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করেছে পুলিশ। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই ঘটনাটি নিয়ে সরব রাজনৈতিক মহলও। এপ্রসঙ্গে, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘একটা ডেপো ছেলে। বড় বড় কথা বলে প্রচার জোগাড়ের চেষ্টা করছে। যে রেস্তরাঁ আগে থেকেই গো-মাংস পরিবেশন করে বলে পরিচিত রয়েছে, সেখানে ওই ছেলেটি কেন খেতে গিয়েছে? সব জেনে ওই রেস্তরাঁতেই খেতে যাওয়ার পিছনে কোনও কারণ রয়েছে। এ থেকে প্রশ্ন উঠছে, ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করতে বিজেপির কোনও নেতার কথায় কি চলছিলেন ওই ইনফ্লুয়েন্সার?’