নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সন্দেহের বশে স্ত্রীর গলায় ব্লেড দিয়ে একাধিক কোপ। এভাবে স্ত্রীকে খুন করার চেষ্টা করে স্বামী নিজেও আত্মঘাতী হওয়ার উদ্যোগ নেন। ঘটনাটি ঘটেছে হরিদেবপুর এলাকায়। দু’জনকেই গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্ত্রী মৌসুমি দাস এখনও চিকিৎসাধীন। সোমবার রাতে স্বামী অমিত সর্দার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করে হরিদেবপুর থানা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিদেবপুর এলাকার বাসিন্দা ওই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনেকদিন ধরেই গোলমাল চলছে। স্ত্রী কাজের সূত্রে বিভিন্ন জায়গায় যান। স্বামীর অভিযোগ, স্ত্রীর সঙ্গে এলাকার এক যুবকের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে গোলমাল চরমে ওঠে। অভিযোগ স্বামী স্ত্রীকেমারধর পর্যন্ত করতেন। ২৮ জানুয়ারি দুপুর তিনটে নাগাদ মৌসুমির এক বান্ধবী ওই বাড়িতে আসেন।স্বামী-স্ত্রী এবং স্ত্রীর ওই বান্ধবী প্রিয়া হালদার একসঙ্গে বসে মদ্যপান শুরু করেন। এই সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হয়। আচমকাই স্বামী ঘর থেকে ব্লেড নিয়ে এসে স্ত্রীর গলায় এলোপাথাড়ি আঘাত করতে শুরু করেন। রক্তাক্ত মহিলাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন বান্ধবী প্রিয়া। তখন তাঁর হাতের তালুতে আঘাত করেন যুবক। এরপর তিনিও গলায় ব্লেড চালিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন।এরপর বান্ধবীর চিৎকার শুনে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরা দরজা খুলে দেখেন, মাটিতে পড়ে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী। রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। খবর দেওয়া হয় হরিদেবপুর থানায়।পুলিশ এসে দু’জনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর আহত যুবকের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, তিনি স্ত্রীকে গলায় ব্লেড দিয়ে আঘাত করে খুনের চেষ্টা করেন। এরপর নিজে আত্মঘাতী হওয়ার জন্য ব্লেড চালান। স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন। তাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। পুলিশ খুনের চেষ্টার কেস রুজু করে অভিযুক্ত যুবককে সোমবার রাতেই গ্রেপ্তার করে।