• ২০ জনের জীবন বাঁচিয়ে, মৌমাছির কামড়ে মৃত্যু অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর
    এই সময় | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ঝাঁকে ঝাঁকে এগিয়ে এসেছিল মৌমাছি। ওই মৌমাছির দল যখন আক্রমণ করে তখন বসে পড়াশোনা করছিলেন শিশুরা। তা দেখে এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করেই শিশুদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। অন্তত ২০ জন শিশুকে সেই আক্রমণের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন তিনি। তবে নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি ওই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। মৌমাছির কামড়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

    মধ্যপ্রদেশের নীমুচ জেলার রানপুর গ্রামের ঘটনা।

    নিজের জীবন নিয়ে শিশুদের যিনি বাঁচিয়েছেন তাঁর নাম কাঞ্চনবাই মেঘওয়াল। তিনি ছিলেন জয় মাতা দি নামে একটি স্ব-সহায়ক দলের সভাপতি। ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে রাঁধুনির কাজ করতেন তিনি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে মাদাওয়াদা পঞ্চায়েতের একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। ওই কেন্দ্রের চত্বরে খেলছিল শিশুরা। ওই কেন্দ্রের পাশেই একটি গাছে একটি মৌচাক। সেখান থেকেই হঠাৎই নেমে আসে মৌমাছির দল। এক সঙ্গে অনেকগুলি মৌমাছিকে আসতে দেখে এক মুহূর্ত দেরি করেননি কাঞ্চনবাই মেঘওয়াল। নিজের কথা না ভেবে শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভাবেন তিনি। আশপাশে পড়েছিল ত্রিপল ও মাদুর। সেগুলি দিয়েই একে একে শিশুদের জড়িয়ে নিজের শরীর দিয়ে ঢেকে দ্রুত তাদের কেন্দ্রের ভিতরে নিয়ে যান তিনি। যখন ওই শিশুদের নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি, তখনই তাঁকে আক্রমণ করে মৌমাছির দল। কিন্তু তাতে আমল না দিয়েই শিশুদের প্রাণ রক্ষায় ব্যস্ত ছিলেন তিনি।

    পরে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান গ্রামের বাসিন্দারা। সঙ্গে ছিলেন কালুনাথ ও পাইলট রাজেশ রাঠোর  নামের দুই পুলিশ কর্মীও। কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার পরেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জানা গিয়েছে কাঞ্চনবাইয়ের স্বামী শিবলাল পক্ষাঘাতে আক্রান্ত।  ঘরে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। তিনিই ছিলেন পরিবারের এক মাত্র ভরসা বলেও জানিয়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা।

    মঙ্গলবার, ময়নাতদন্তের পর তাঁর দেহ নিয়ে আসা হয় রানপুর গ্রামে। তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান বাসিন্দারা। যে ভাবে সাহসের সঙ্গে অন্যদের জীবন বাঁচিয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন সেই জন্য তাঁকে কুর্নিশও জানান তাঁরা।

    তবে এখন ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন গ্রামের লোকজন। তাঁদের সন্তানদের সেখানে পাঠাতে সাহস দেখাচ্ছেন না তাঁরা। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পাশের গাছেই ওই মৌচাক। সেখানেই আছে জলের কল। ফলে জল আনতেও ভয় পাচ্ছেন বাসিন্দারা। অবিলম্বে ওই মৌচাক সরানো এবং কাঞ্চনবাইয়ের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য করার দাবিও করেছেন তাঁরা।

    অন্য দিকে, মঙ্গলবারও আমলিখেদা গ্রামের প্রধান মোড়ে মৌমাছির একটি ঝাঁক লোকজনকে আক্রমণ করে। তাতে আহত হয়েছেন একাধিক গ্রামবাসী। ফলে আরও বেশি করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে তাঁদের মনে।

  • Link to this news (এই সময়)