• সমাজের মূলস্রোত থেকে তাঁরা বিচ্ছিন্ন, বইমেলায় গান শোনালেন সংশোধনাগারের আবাসিকেরা
    এই সময় | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • প্রতিবারের মতো এ বছরও বইমেলার ১১ দিনের সফরে রাজ্য মহিলা কমিশনের স্টলে ছিল ঠাসা কর্মসৃচি। ৩ ফেব্রুয়ারি এ বছরের মতো বইমেলার অন্তিম পর্ব। বই উৎসবের শেষের আগের সন্ধেয় রঙিন হয়ে থাকল পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের স্টল। বেশ কয়েক বছর থেকেই বইমেলায় এ মহিলা কমিশনের স্টলে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকেন রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনগারের আবাসিকেরা। এ বছরও বইমেলার নবমী নিশিতে মহিলা কমিশনের স্টল আলোকিত হয়েছিল আলিপুর মহিলা সংশোধনাগারের কয়েকজন আবাসিকের উপস্থিতিতে।

    এ কদিন যাবৎ বইমেলায় কমিশনের স্টলে নানা স্বাদের অনুষ্ঠান হয়েছে। তবে সোম-সন্ধ্যায় এক অন্য মুহূর্ত তৈরি হলো। সুরে সুরে ভরে উঠল চারপাশ। গাইলেন সংশোধনাগারের আবাসিকেরা। এই মানুষগুলি থাকেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। সমাজের মূলস্রোত থেকে তাঁদের বাস অনেক দূরে। আকাশ দেখার সুযোগ হয় মাঝেমাঝে। যেদিন সেই সুযোগ আসে, চারপাশের সমস্ত আলো যতটা সম্ভব দু'চোখে মেখে নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরাও। এ দিন তাই মনপ্রাণে ঢেলে তাঁরা গাইলেন 'বন্ধু বিনে প্রাণ বাঁচে না', 'কমলাসুন্দরী', 'বন্ধু তিন দিন'-এর মতো জনপ্রিয় কিছু গান।

    সংশোধনাগারের আবাসিকদের একদিন কিছুটা অন্যরকম মুহূর্ত উপহার দেওয়ার পরিকল্পক পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'প্রতিবছরই বিভিন্ন সংশোধনাগারের আবাসিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয় মহিলা কমিশনের তরফে। কোনও বছর আবাসিকেরা তাঁদের হাতে তৈরি জিনিস আমাদের স্টল বিক্রি করেন। সেই বিক্রিত অর্থ যায় আবাসিকদের কাছেই। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেন। জেলে যাওয়া মানেই তো জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। একদিন নিশ্চয় তাঁরা সমাজের মূলস্রোতে ফিরবেন। তারই একটা শুরু যদি আমাদের হাত ধরে হয়, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য থাকে।'
  • Link to this news (এই সময়)