এই সময়, আসানসোল: জঞ্জালে জঞ্জালে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে আসানসোল পুর এলাকার জনজীবন। আসানসোল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, কুলটি, বরাকর সাফাইকর্মীদের টানা ধর্মঘটে পুর এলাকার যত্রতত্র স্তূপ হয়ে রয়েছে জঞ্জাল, নালা-নর্দমার জল উপচে গড়াচ্ছে রাস্তায়। যে কোনও সময়ে ডায়ারিয়া বা অন্য অসুখ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। কিন্তু একদিকে নিজেদের দাবিতে অনড় সাফাইকর্মীরা, আরেক দিকে বেতন বৃদ্ধির দাবি মানতে নারাজ পুর কর্তৃপক্ষ। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন, সমস্যার সমাধানে সদিচ্ছা নেই পুর কর্তৃপক্ষের।
বিধানসভা ভোট যখন দোরগোড়ায়, তখন সাফাইকর্মীদের এই ধর্মঘটে প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল। এই অস্বস্তির অন্যতম কারণ নাগরিকদের ক্ষোভ। গোপালপুরের বাসিন্দা আসানসোল মাইন্স বোর্ড অফ হেলথ-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান শ্যামল সান্যাল মঙ্গলবার বলেন, 'দুর্গন্ধের সঙ্গে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে। এর পরে ডেঙ্গি হবে। সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার।' কল্যাণপুরের বাসিন্দা আইএমএ-র সদস্য চিকিৎসক অরুণাভ সেনগুপ্তও বলেন, 'এ ভাবে জঞ্জাল জমে থাকলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বেন। ডায়ারিয়া ছড়াতে পারে।'
বার্নপুরের একটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা আচার্য বলেন, 'পড়ুয়াদের পরিচ্ছন্ন থাকার পাঠ দিচ্ছি। কিন্তু ওরা যে শহরে বাস করে, সেখানে এমন বেহাল সাফাই-নিকাশির জন্য লজ্জা হচ্ছে।' আসানসোলের হটন রোডে দোকান রয়েছে রানা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি এ দিন বলেন, 'দোকানে বসে থাকাই দায় হয়ে উঠেছে।' রানিগঞ্জের সিটিজেন্স কাউন্সিলের সভাপতি গৌতম ঘটক বলেন, 'আমাদের শিশুবাগান, রামবাগান অঞ্চলের ডাস্টবিন থেকে জঞ্জাল রাস্তায় এসে পড়ছে। পণ্ডিতপুকুর থেকে রাজারবাঁধ অঞ্চল পর্যন্ত নর্দমার জল বাড়িতে ঢুকছে।' আসানসোল পুরসভার ১০৬টি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রোজ এই ওয়ার্ডগুলি থেকে প্রায় ২০০ মেট্রিক টন জঞ্জাল ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলা হয়। টানা পাঁচ দিন ধরে সাফাইকর্মীদের ধর্মঘটে সে কাজ বন্ধ। মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন, সচিত্র পরিচয়পত্র, পিএফ অ্যাকাউন্টে টাকা জমা ও ক্যাজুয়াল কর্মীর মর্যাদার দাবিতে পুরসভার সাড়ে তিন হাজার সাফাইকর্মী গত শুক্রবার থেকে ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মেয়র বিধান উপাধ্যায় মঙ্গলবার বলেছেন, 'বেতন বাড়ানো যাবে না। তবে বাকি তিনটি দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।' সাফাইকর্মীদের পক্ষে নীলু হাঁড়ি এ দিন বলেন, 'এখন মাসে ন'হাজার টাকা পাই। এতে সংসার চলে না। বেতন না বাড়ালে কাজে যোগ দেবো না।' এ দিনও পুরসভায় তুমুল বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।