• মিমি কাণ্ডে জামিন হলো না জ্যোতিষী তনয়ের
    এই সময় | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, বনগাঁ: অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে ‘হেনস্থা’র ঘটনায় প্রথম পর্যায়ের জেল হেফাজতের শেষে এই মামলায় ধৃত তনয় শাস্ত্রী–সহ তিনজনকে মঙ্গলবার তোলা হয় বনগাঁ আদালতে।এ দিন ধৃত তিনজনকে ফের চারদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি তাঁদের তোলা হবে বনগাঁ কোর্টে। পাশাপাশি আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অভিনেত্রীর অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর গোপন জবানবন্দি নেওয়ার নির্দেশ পুলিশকে দিয়েছেন বিচারক।

    কয়েক দিন আগে বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জের একটি ক্লাবের বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্টেজ শো করতে এসেছিলেন অভিনেত্রী তথা যাদবপুরের প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী।অভিযোগ, অভিনেত্রীর গোটা তিনেক গান গাইবার পরেই ক্লাব উপদেষ্টা তনয় শাস্ত্রী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করার পাশাপাশি তাঁকে স্টেজ থেকে নেমে যাওয়ার অনুরোধ করেন। স্টেজ থেকে নেমে গেলেও ফেরার পথে ইমেলে বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মিমি। যদিও ওই ক্লাবের অন্যান্য সদস্য ও তনয়ের দাবি, অনুষ্ঠানের অনুমতি ছিল রাত ১২টা পর্যন্ত। মিমি রাত পৌনে বারোটায় স্টেজে ওঠায় তাঁকে বেশিক্ষণ সময় দেওয়া যায়নি। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য রাত ১২টায় অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। অভিনেত্রীকে কোনও অপমান, হেনস্থা করা হয়নি। এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার তনয়ের বাড়িতে গিয়েছিল বনগাঁ থানার পুলিশ। তাঁকে আটক করে গাড়িতে তোলার সময় এলাকার বাসিন্দা থেকে ক্লাব সদস্যরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেন। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়। এর পরেই তনয় ও ক্লাবের আরও দুই যুবক সৌরভ দাস এবং বাপ্পা প্রামাণিককে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    প্রথম পর্যায়ে চারদিনের জেল হেফাজত শেষে মঙ্গলবার তনয়–সহ তিনজনকে তোলা হয় বনগাঁ আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ তারিক ফিরদৌসের এজলাসে ।তনয়ের পক্ষের আইনজীবী মনোজ সাহা, দীপ্তিময় দত্ত জামিনের আবেদন করেন। পুলিশও সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করে। পাশাপাশি তনয় শাস্ত্রীর বাড়িতে সন্দেহজনক কিছু উদ্ধারের জন্য সার্চ ওয়ারেন্টের আবেদনও করে পুলিশ। কিন্তু পুলিশের আবেদন এবং তনয়ের আইনজীবীদের জামিনের আবেদন নাকচ করে তিনজনকেই ফের চার দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। প্রথম পর্যায়ে জেল হেফাজতের নির্দেশের সময় বিচারক বনগাঁ থানার পুলিশকে কেস ডায়েরি এবং পুলিশের ইনজুরি রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এ দিন পুলিশ কেস ডায়েরি এবং ইনজুরি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেখানে দু’জন পুলিশকর্মীর মাইনর ইনজুরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে এই মামলার আইনজীবী দীপ্তিময় দত্ত বলেন, ‘আমরা তিনজনের জামিনের আবেদন করেছিলাম। পুলিশও নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করেছিল। বিচারক দু’টি আবেদন নাকচ করে চারদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, পুলিশের কাজে বাধা, পুলিশকে আঘাত করা–সহ ৯টি ধারায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিনেত্রী পুলিশের কাছে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন। বিচারক আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাঁর গোপন জবানবন্দি করতে হবে বলে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

    তনয় বলেন, ‘আইনের প্রতি আমার ভরসা রয়েছে। আইন সঠিক বিচার করবে বলেই বিশ্বাস।’

  • Link to this news (এই সময়)