এই সময়, তমলুক: জাতীয় সড়কে পথ দুর্ঘটনা কমাতে তৎপর হলো পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। জেলা জুড়ে ৭০টি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা বা ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। এরই মাঝে আবার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর দুর্ঘটনায় জখমদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তৈরি 'পথবন্ধু' টিমকে প্রশিক্ষণ দিল। গত দু'দিন ধরে নিমতৌড়িতে জেলাশাসকের কার্যালয়ে তাঁদের নিয়ে প্রশিক্ষণ শিবির করা হয়। জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ (ওয়ান) নারায়ণ মিদ্যার কথায়, 'পথবন্ধুরা চিকিৎসক নন, কিন্তু দুর্ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহতদের প্রাণ বাঁচাতে পারেন। তাই তাঁদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।'
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কোলাঘাট থেকে শুরু করে হলদিয়া ও দিঘা পর্যন্ত জাতীয় সড়কে মোট ১১৪ জন 'পথবন্ধু' কাজ করছেন। প্রতিটি থানা ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় তাঁদের যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সড়কের ধারে দোকানগুলিতেও নাম ও ফোন নম্বর দেওয়া থাকে, যাতে দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
ডেপুটি সিএমওএইচ (ফোর) স্বস্তিভূষণ কুণ্ডু বলেন, 'দুর্ঘটনার পরে সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছনো গেলে বহু প্রাণ বাঁচানো যাবে। পথবন্ধুরা সেই কাজটাই করেন। তার জন্য এই প্রশিক্ষণের প্রয়োজন ছিল।' অন্য দিকে, সারা বছর জুড়ে পথ নিরাপত্তা সচেতনতার জন্য জেলা পুলিশের তরফে 'সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ' কর্মসূচি চলছে। তারপরেও কিছু মানুষের অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।'
জেলা পরিবহণ দপ্তরও দুর্ঘটনা রোধে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় এক হাজার বাস চলাচল করে। সেই সব বাসের 'মেকানিক্যাল হেলথ চেকআপ' চলছে। জাতীয় সড়কের বাস চেকিং অভিযানে ইতিমধ্যেই দু'দিনে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। মঙ্গলবার বিকেলে সোনাপেত্যা টোল প্লাজায় চেকিং অভিযান চালানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক সঞ্জয় হালদার, টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল আধিকারিকরা। এ বিষয়ে সঞ্জয় বলেন, 'যাত্রিবাহী বাসগুলির সবকিছু ঠিক থাকলে পরিষেবাও উন্নত হবে।' এই বিষয়ে বাস চালক সৌরভ হাতি বলেন, 'মাঝেমধ্যেই এই ধরনের চেকিং করা প্রয়োজন।'