• ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু ঠাকুমার প্রতিশোধ নাতির, চেম্বারে ঢুকেই গ্রামীণ ডাক্তারের ঘাড়ে কোপ
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমানের বাদামতলায় চেম্বারে ঢুকে এক গ্রামীণ চিকিৎসককে কুপিয়ে খুন করল এক যুবক। রাজা ভৌমিক(৪৮) নামে ওই চিকিৎসকের ঘাড়ে কোপ মারা হয়। চেম্বারের মধ্যেই তিনি মারা যান। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আততায়ী থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। তার দাবি, ওই অস্থি চিকিৎসক তার দিদিমার ভুল চিকিৎসা করেছিলেন। সেই কারণে সে খুন হয়েছে। বাড়ি থেকেই সে ব্যাগে করে কাটারি এনেছিল। চেম্বারে কেউ ছিল না। সেই সুযোগেই সে ভিতরে ঢুকে খুন করে। সেখান থেকেই হেঁটে থানায় পৌঁছে জীবন রুইদাস নামে ওই অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করে। পুলিশ সুপার সায়ক দাস বলেন, ধৃতকে জেরা করা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত চিকিৎসকের বাড়ি বর্ধমান শহরের বাবুরবাগ কালীতলায়। তিনি আগে কমপাউন্ডারের কাজ করতেন। তিন বছর আগে তিনি নিজে চেম্বার করেন। অস্থি সংক্রান্ত বিষয়ে চিকিৎসা করতেন। এদিন দুপুরের দিকে ওই যুবক সাধারণ রোগীর মতোই ব্যাগ নিয়ে চেম্বারে ঢোকে। দিদিমার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিছুক্ষণ বচসা হওয়ার পরই সে ব্যাগ থেকে ধারালো কাটারি বের করে চিকিৎসকের ঘাড়ে কোপ মারে। ওই চিকিৎসক রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ফের সে ঘাড়ে কোপ মারে।মৃতর ভাইপো আকাশ ভৌমিক বলেন, চিকিৎসক হিসেবে কাকা নামডাক হয়েছিল। কারও সঙ্গে তাঁর শত্রুতা ছিল না। অভিযুক্ত যুবক দাবি করেছে, তাঁর দিদিমা নাকি ভুল চিকিৎসার কারণে মারা গিয়েছেন। কিন্তু সেটা প্রমাণিত নয়। তাছাড়া হাড়ের চিকিৎসার ওষুধ খেয়ে কেউ মারা যায় বলে শুনিনি। বাড়িতে কাকিমা ছাড়াও তাঁদের দুই নাবালক সন্তান রয়েছে। কাকার আয়েই সংসার চলত।মৃতের সম্পর্কিত ভাই রকি ভৌমিক বলেন, অন্যান্য দিনের মতোই এদিন সকালে দাদা বাদামতলায় এসে চেম্বার খোলে। দুপুরের দিকে খবর পাই, কাকাকে খুন করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, ওই যুবক চেম্বারে ঢুকে খুন করে চলে গেলেও কেউ টের পায়নি। বাদামতলার জমজমাট এলাকায় রাস্তার পাশেই তাঁর চেম্বার। আশেপাশে দোকান, ব্যাঙ্ক রয়েছে। সব সময় চেম্বারের আশেপাশে লোকজন থাকে। তারপরও খুনের সময় কেউ কিছু টের পায়নি। পুলিশ আসার পর তারা খুনের কথা জানতে পারে।পুলিশ জানিয়েছে, চেম্বারে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। পুরো ঘটনা ক্যামেরা বন্দি হয়ে রয়েছে। রক্ত চেম্বারের চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। দেওয়ালেও রক্তের দাগ লেগে রয়েছে। অভিযুক্ত যুবক খুন করার পর গেট বাইরের দিকে টেনে দেয়। সেখান থেকে হেঁটে সে কয়েকশো মিটার দূরে বধর্মান থানায় যায়। কীভাবে খুন করেছে, তার বিবরণ সে থানায় গিয়ে দেয়। তা শুনে পুলিশ প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেনি। পরে রক্ত মাখা কাটারি দেখানোয় পুলিশের আর অবিশ্বাস করার জায়গা ছিল না।
  • Link to this news (বর্তমান)