• এবার রেড রোডের দু’পারে রেলিং, কাট আউটে গেট বসানোর প্রস্তাব, বিপজ্জনকভাবে রাস্তা পারাপার রুখতে উদ্যোগ লালবাজারের
    বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গাড়ি হোক কিংবা বাইক মোটামুটি ৬০ কিলোমিটার বেগে ছোটে রেড রোডে। এই দুরন্ত গতির মধ্যেই চলে অবৈধ পারাপার। ময়দানের তাঁবু থেকে বেরিয়ে বিপজ্জনকভাবে শহরের রাজপথ পেরন বেপরোয়া পথচারীরা। এবার শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা রেড রোডে জে-ওয়াকিং রুখতে উদ্যোগ নিল লালবাজার। ট্রাফিক বিভাগরাস্তা নিয়েএকটি সমীক্ষা চালায়। তারপর উঠে আসে, রেড রোডে যে দু’টি কাট-আউট রয়েছে তা দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় কম করে ১০ থেকে ১২ জন পথচারী পারাপার করেন। এর ফলেবাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এবার মানুষের নিরাপত্তায় রেড রোডের দু’পাশে রেলিং এবং কাট-আউটগুলিতে গেট বসানোর প্রস্তাব দিল কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। লালবাজার সূত্রে খবর, পূর্তদপ্তরের কাছে পাঠানো হয়েছেসে প্রস্তাব।শহরের দুর্ঘটনার খতিয়ান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রেড রোডে দুর্ঘটনা ঘটেছে সাতটি। তার মধ্যে দু’টি ঘটনায় গুরুতর জখম ৪। দু’টি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই দ্রুতগতির গাড়ির সামনে পথচারী এসে পড়েন। তাঁদের বাঁচাতে গিয়েই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দু’টি গাড়ি। এরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ডিসি ট্রাফিক শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও। সঙ্গে ছিলেন সাউথ ট্রাফিক গার্ডের অফিসাররা। পরিদর্শনে দেখা গিয়েছে, রেড রোডে দ্রুতগতির যানবাহনের ফাঁক দিয়ে পারাপার করছে সাধারণ মানুষ। যদিও রেড রোডে রাস্তা পারাপার নিষিদ্ধ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উড়িয়েই দেদার চলছে পারাপার। সেই পথচারীর সঙ্গে ডিসি ট্রাফিক নিজে কথা বলেন। প্রশ্ন করেন, ‘বিপজ্জনকভাবে কেন রাস্তা পারাপার করছেন?’পথচারী বেপরোয়াভাবেবলেন, ‘এখান দিয়ে রাস্তা পেরলে কম হাঁটতে হয়। নাহলে অনেকঘুরতে হয়।’এরপর সেই পথচারীকে তাঁরই নিরাপত্তার স্বার্থে ঘুরেযেতে পরামর্শ দেন পুলিশ আধিকারিকরা।তারপর ট্রাফিক বিভাগ রেড রোডের দু’পাশে রেলিং ও কাট-আউটে গেট বসানোর প্রস্তাব দেয় পুলিশ কমিশনারের কাছে। প্রস্তাবে সম্মতি জানান কমিশনার। রেড রোডের দু’পাশ সেনাবাহিনীর এলাকা। তাই রেলিং বসানোর জন্য সেনার অনুমতির প্রয়োজন। ট্রাফিক বিভাগ সূত্রেজানা গিয়েছে, প্রাথমিকস্তরে আলোচনা হয়েছে সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে। তাতে জে-ওয়াকিংয়ের সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিত মিলেছে। ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, সাউথ ট্রাফিক গার্ড, পূর্তদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে রেড রোডের বিপজ্জনক অংশগুলি ঘুরে দেখার সম্মতি দেন সেনাকর্তা। পরিদর্শনের তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি। সেনাবাহিনীকে এনিয়ে ইতিমধ্যেই একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। কিন্তু জানা গিয়েছে, চিঠির উত্তর এখনও আসেনি।
  • Link to this news (বর্তমান)