সৌমেন ভট্টাচার্য: মাঝ আকাশে বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেল তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান। ইঞ্জিনে আগুন দেখতে পাওয়ার পর বুধবার তড়িঘড়ি কলকাতা বিমানবন্দরে সেটিকে জরুরি অবতরণ করানো হয়। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বিমানে থাকা যাত্রীরা।
বিমানবন্দর সূত্রে খবর, তার্কিশ এয়ারলাইন্সের ৭২৭ (TK 727) বিমানটি নেপালের কাঠমান্ডু থেকে তুরস্কের ইস্তানবুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। বিমানটি যখন কলকাতার আকাশসীমায় ছিল, তখনই পাইলট লক্ষ্য করেন যে ইঞ্জিনের একটি অংশে আগুন জ্বলছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পাইলট তৎক্ষণাৎ কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
কলকাতা এটিসি থেকে সবুজ সংকেত মেলার পরপরই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিমানটিকে রানওয়েতে নামিয়ে আনা হয়। বিমানবন্দরে আগে থেকেই দমকল ও জরুরি বিভাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করার পর যাত্রীদের নামিয়ে আনা হয়। বর্তমানে বিমানটির মেরামতির কাজ চলছে এবং যাত্রীরা বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করছেন। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই আগুন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২৮ জানুয়ারি বুধবার সকালে ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার-সহ ৪। জানা যায়, মুম্বই থেকে বারামাতির উদ্দেশ্যে আসছিল বিমানটি। বারামতি বিমানবন্দরে ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিংয়ের আগেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক মাঠের মধ্যে ভেঙে পড়ে বিমানটি।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, 'নিজের চোখে দেখেছি। বিমান রানওয়ের দিকে যাচ্ছিল এবং রানওয়ের কাছাকাছি এসেও সেখানে থেকে প্রায় ১০০ ফুট আগেই আছড়ে পড়ে। যেভাবে বিমানটি নীচে নামছিল, দেখেই হচ্ছিল ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটবে আর সেটাই হল। মাটিতে আছড়ে পড়ার পর বিমান ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটে, তারপর দাউদাউ করে আগুন করে জ্বলে ওঠে। এরপর আরও ৪-৫টি বিস্ফোরণ ঘটে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিমানটি ভেঙে পড়ার পর সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা ছুটে যায়। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে যেতে পারেনি। ওর মধ্যে অজিত দা ছিলেন, এটা সবথেকে বেশি দুঃখজনক।'