• পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারের প্রতিবাদ, ঘরে আটকে SI-কে বেধড়ক মার, সাসপেন্ড প্রধান শিক্ষক-সহ ৮
    এই সময় | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন পর্ষদের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিব্যি চলছিল মোবাইলের ব্যবহার। প্রতিবাদ করায় উল্টে মারধরের অভিযোগ অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে (SI)। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের আঝাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনায় প্রধান শিক্ষক, গ্রুপ-ডি-সহ আট জনকে সাসপেন্ড করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। একইসঙ্গে স্কুল পরিদর্শককে (এসআই) মারধরের ঘটনায় শুরু হয়েছে শাসক বিরোধী তরজা। বিরোধীরা কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে শাসকদল তৃণমূলকে।

    জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার জামালপুরের আঝাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন পরিদর্শনে আসেন জামালপুর পূর্ব চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রশান্ত কবিরাজ। সে সময়ে এক গ্রুপ ডি কর্মীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন পাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করায় স্কুলের মধ্যেই শিক্ষকদের হাতে প্রহৃত হন স্কুল ইনস্পেক্টর। জখম অবস্থায় জামালপুর পূর্ব চক্রের স্কুল পরিদর্শক তথা পরীক্ষা কেন্দ্রের অফিসার ইন চার্জ প্রশান্ত কবিরাজকে উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও পরে বর্ধমানের অনাময় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রহৃত স্কুল পরিদর্শক পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    স্কুল পরিদর্শকের অভিযোগ,মঙ্গলবার পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় গ্রুপ ডি কর্মীর মোবাইল বেজে ওঠে। পর্ষদের নিয়ম না মেনে কেন শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মী ফোন নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন এ নিয়ে প্রধান শিক্ষককের কাছে কৈফিয়ত চান তিনি। অভিযোগ, মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতেই স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয়। গালিগালাজও করা হয়। এমনকী তাঁর বাজেয়াপ্ত করা মোবাইলটি কেড়ে নেওয়া হয়। তাঁকে ঘরে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়। তাঁকে ঘিরে ধরে চলে কিল, চড়, ঘুষি। জোর করে তাঁকে স্কুলে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে তিনি বিডিওকে ফোন করেন। পরে স্কুল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে জামালপুর থানার পুলিশ।

    তবে এর পরেই পর্ষদের কাছে অভিযোগ যায় ও ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে খবর। স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং এক ক্লার্ক-সহ আট জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা স্কুল পরিদর্শক (সেকেন্ডারি) দেবব্রত পাল।

    নজিরবিহীন এই ঘটনায় হতবাক হয়ে যান অভিভাবক এবং পরীক্ষার্থীরা। তবে এই ঘটনায় পরীক্ষার কোনও ব্যাঘাত হয়নি বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের। যদিও আঝাপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অসীমকুমার বিশ্বাস দাবি করেছেন, ‘আমার স্কুলের একজন গ্রুপ ডি ভুল করে মোবাইল ফোন নিয়ে এসেছিলেন। তিনি ফোনটা সুইচড অফ করে দেননি। আমি তা পাশের ঘরের টেবিলে রেখে দিয়েছিলাম। সুষ্ঠু ভাবে পরীক্ষা হচ্ছিল। ওই ফোনটা বেজে উঠেছিল পরিদর্শকের সামনেই। তা কেউ ব্যবহার করছিল না। এই অভিযোগ সত্য নয়।’

    ঘটনায় শুরু রাজনৈতিক তরজাও। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন,‘তৃণমূল শাসনে শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। এটা তারই নিদর্শন।’ সিপিএম নেতা অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় বলেন,‘শিক্ষাক্ষেত্রে এইরকম ঘটনা এখন তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে সম্ভব। আমরা চাই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়া হোক।’ তবে তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘এই ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনিও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করেন।

  • Link to this news (এই সময়)