দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সওয়াল করলেন। আইনজীবী হিসেবে নয়, মামলাকারী হিসেবে। তবে আইনজীবী হিসেবে আগেও বহুবার এজলাসে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও বালুরঘাট আদালতে, কখনও চুঁচুড়ার আদালতে। বুধবারের ঘটনা উস্কে দিল সেই সময়কার স্মৃতি।
১৯৯৭ সালের জুলাই মাসের ৬ তারিখ। রথযাত্রার দিন। হুগলির গুপ্তিপাড়ায় রথের সড়কে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের বিরোধ শুরু হয়। অশান্তি এমন পর্যায় পৌঁছয় যে পুলিশ গুলি চালায় বলে অভিযোগ ছিল। গুপ্তিপাড়া লালপুকুর এলাকার বাসিন্দা হলধর মণ্ডল ও বুড়ো বাগ গুলিবিদ্ধ হন। মৃত্যু হয় হলধর মণ্ডলের।
পরের দিন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুপ্তিপাড়ায় যান। মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। রথের সড়কে ছোট সভা করে সোজা চুঁচুড়া আদালতে পৌঁছে যান। খবর ছিল মৃত হলধর মণ্ডলের দেহ চুঁচুড়াতেই দাহ করে দেবে পুলিশ। এর বিরুদ্ধে মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সে দিন চুঁচুড়ায় জেলা জজ কোর্টে সওয়াল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই দিন কালো গাউন পরে মমতাকে আদালতে সওয়াল করতে দেখেছিলেন অনেকেই।
এর তিন বছর আগে ১৯৯৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বালুরঘাট জেলা আদালতেও সওয়াল করেছিলেন মমতা। কুমারগঞ্জে ছাত্র আন্দলোনকে ঘিরে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশ নির্বিকারে গুলি চালিয়ে ছিল বলে অভিযোগ। সেই গুলিতে আন্দোলনকারী ছাত্র পার্থ সিংহের মৃত্যু হয়। এবং আরও তিনজন আহত হয়েছিলেন।
খবর পেয়ে ওই বছর ৫ ফেব্রুয়ারি কুমারগঞ্জে পার্থ সিংহের বাড়ি গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে জেলার সকল নেতৃত্বকে নিয়ে গিয়েছিলেন। এর পর ওই মাসের ৯ তারিখ হিলিতে এসেছিলেন তিনি। সেই সময়ে দলীয় নেতৃত্বদের জিজ্ঞাসা করেন কুমারগঞ্জের ঘটনায় ধৃতরা কি জামিন পেয়েছেন? জামিন না পাওয়ার খবর পেয়েই পরের দিন ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বালুরঘাট জেলা আদালতে যান। সেই সময়ে মমতার সঙ্গী ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তী, বালুরঘাট জেলা আদালতের প্রাক্তন সরকারি আইনজীবী সুভাষ চাকি, মন্মথ ঘোষের মতো বর্ষীয়ান আইনজীবীরা।
সেই সময়কার সহকর্মী আইনজীবী তথা তৃণমূল নেতা সুভাষ চাকি বলেন, ‘আমাদের কাছে এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৪ সালে আমাদের বালুরঘাট জেলা আদালতে প্রথমবারের মতো কালো গাউন পরে সাধারণ মানুষের হয়ে লড়েছিলেন। আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আবার সাধারণ মানুষের জন্যই লড়তে গিয়েছেন। এটা কম গর্বের নয়। উনি যে সাধারণ মানুষের জন্য সবকিছু করতে পারেন তা আবারও প্রমাণিত হলো।
বালুরঘাট জেলা আদালতের বর্ষীয়ান আইনজীবী মন্মথ ঘোষ স্মৃতিচারণা করে বলেন, প্রায় ৩২ বছর আগে কুমারগঞ্জের মামলাকে ঘিরে আন্দোলনকারীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বালুরঘাট বার অ্যাসোসিয়েশনের লাইব্রেরি কক্ষে বসে রণকৌশল চূড়ান্ত করার পর প্রয়াত নীলকান্ত বাগচীর নেতৃত্বে আমরা সওয়াল জবাব করি।