'৮ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করবেন মমতা', রাজ্য বাজেটের আগে বড় দাবি
আজ তক | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে আগামিকাল বৃহস্পতিবার রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট। এবারের বাজেটেও কি রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) বৃদ্ধি করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার? সেই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের মনে। বিভিন্ন সরকারি কর্মীদের সংগঠন এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, সামনেই ভোট। সেই দিকে খেয়াল রেখে ডিএ ঘোষণা করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার।
তাঁদের যুক্তি, গত কয়েক বছর ধরেই বাজেটের সময় ডিএ ঘোষণা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। ২০২৩ সালে ৩ এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালে যথাক্রমে ৪ শতাংশ করে ডিএ বাড়ানো হয়েছিল। এবারও সেই ধারা বজায় রাখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের আরও দাবি, কেন্দ্র সরকারি কর্মীদের থেকে রাজ্যের কর্মীরা এখন ৪০ শতাংশ ডিএ কম পান। সেটাও এবার ডিএ-র সম্ভাব্য বৃদ্ধির আর একটা কারণ।
তবে কত শতাংশ ডিএ বাড়বে তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলি। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ যেমন মনে করছে, এবার ৮ শতাংশ পর্যন্ত ডিএ বৃদ্ধি করতে পারে সরকার। অন্যদিকে বিজেপি প্রভাবিত সরকারি কর্মচারী পরিষদের আবার অনুমান, এই অঙ্কটা হতে পারে ৪ শতাংশ।
কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় যেমন বললেন, 'আমাদের মনে হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী ৮ শতাংশ পর্যন্ত ডিএ ঘোষণা করতে পারেন। কারণ, তিনি বারবার বলে থাকেন, বছরে নাকি ৮ শতাংশ করে ডিএ দেন। অথচ এর আগে একবারও তা দেননি। ৩ বা ৪ শতাংশ করে দিয়ে এখনও পর্যন্ত আমরা ১৮ শতাংশ পাচ্ছি। তবে এখন অবস্থাটা ভিন্ন। এখন কেন্দ্র সরকারি কর্মীরা পান ৫৮ শতাংশ ডিএ। আমাদের কর্মীরা মাত্র ১৮। সেই ৪০ শতাংশের ফারাক মেটানোর জন্যই ৮ শতাংশ ডিএ দিতে পারে সরকার। না হলে মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। এমনিতেই সরকারি কর্মীরা তাঁর উপর ক্ষিপ্ত। সেই ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করতে পারেন তিনি।'
আবার সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীল দাবি করেন, রাজ্য সরকার ৪ শতাংশ মতো ডিএ এবারও দিতে পারে। তার বেশি নয়। তিনি বলেন, 'সরকার দিনের পর দিন সরকারি কর্মীদের ডিএ দেয় না। পাওনা রয়েছে তার উপর কেন্দ্র সরকার যদি আরও ২ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করে তাহলে ব্যবধানটা হয়ে যাবে ৪২ শতাংশের। সেই ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যদি কাল ৪ শতাংশ ঘোষণা করে তাহলেও তো ৩৮ শতাংশ পাওনা থাকবেই।'
তবে ওই দুই নেতার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী আগামিকাল ডিএ ঘোষণা করবেন সে নিয়ে তাঁদের সন্দেহ নেই তেমন। তবে সেটা তিনি করবেন নিজের স্বার্থে। সামনে ভোট, সেজন্য। সরকারি কর্মীদের পাশে থাকার জন্য নয়।
প্রসঙ্গত, গত ৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে শেষ হয়েছে রাজ্যের ডিএ মামলার শুনানি। রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছেন বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ। দেবাশীস শীলের দাবি, ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে রায় বেরোতে পারে। সরকারি কর্মীদের পক্ষেই সেই রায় যাবে। তিনি আরও জানান, 'কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের হারে রাজ্যের কর্মীরা যতদিন ডিএ না পাবেন ততদিন লড়াই চলবে। তাই রাজ্য সরকার কাল কত শতাংশ ডিএ দেবে বা দেবে না তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই।' একই কথা বলেন মলয় মুখোপাধ্য়ায়ও।