• খিদে জ্বালায় কান্না, এক চড়ে মেয়েকে খুন করে দেহ লোপাট বাবার! ১০ বছর পর...
    ২৪ ঘন্টা | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • বিধান সরকার: এ কেমন বাবা! খিদের জ্বালা কান্নাকাটি করছিল। এক চড়ে মেয়েকে খুন করে বেমালুম দেহ লোপাট! ১০ বছর পর অভিযুক্তকে যাবজ্জীবনের সাজা শোনাল আদালত। সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা। অনাদায়ে আরও ৬ মাস জেল।

    জানা গিয়েছে, হুগলির বাঁশবেড়িয়ার নিমতলার বাসিন্দা  রবি শংকর। তাঁর দুই সন্তান। স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে রাজস্থানে চলে গিয়েছেন। দুই শিশু সন্তানকে বাড়ি রেখেই জুটমিলে কাজ যেতেন রবি শংকর। 

    এদিকে সারাদিন খাওয়াদাওয়া নেই। বাড়িতে চরম অবহেলায় দিন কাটত দুই শিশুর। দিনটা ছিল ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর। সেদিন রাত ন'টা নাগাদ বাড়িতে ফেরেন ররি শংকর। বাবাকে দেখেই খিদের জ্বালায় কান্নাকাটি জুড়ে দেয় দুই সন্তান। রাগের মাথায় পাঁচ বছরের মেয়ে সপাটে চড় মারেন রবি শংকর। ঘরেই মৃত্যু হয় শিশুটির। এরপর পরিত্য়ক্ত কারখানায় দেহ পুঁতে দিয়ে আসে রবিশংকর। ঘটনাটি জানাজানি হতেই মগরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রতিবেশী মনোজ সাউ।

    নিখোঁজ নাবালিকার সন্ধানে নামে পুলিস। আটক করা হয় রবিশংকরকে। পুলিস জেরায় অপরাধ স্বীকারও করে নেয় সে।  তদন্তের পর নিয়মাফিক আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিস। ১০ বছর মামলা চলে আদালতে। অবশেষে অভিযুক্ত রবিশংকরকেই দোষী সাব্যস্ত করে  চুঁচুঁড়া আদালত। কবে? গত সোমবার। আজ, বুধবার সাজা ঘোষণা করলেন বিচারক।

    এই মামলার  মুখ্য সরকারি আইনজীবী ছিলেন শংকর গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'তদন্তকারী অফিসার খুব ভালো তদন্ত করেছেন। মাটি খুঁড়ে মৃতদেহ তোলার সময় উপস্থিত ছিলেন তত্‍কালীন ম্যাজিস্ট্রেট সমীরণ ভট্টাচার্য। কিন্তু মামলা চলাকালীন অন্যত্র বদলি হয়ে যান। তিনিও এসে আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন'।

    এর আগে, ডায়মন্ড হারবারের : সাত মাসের শিশু সন্তানকে আছাড় দিয়ে  খুন করেছিল বাবাই! সেদিন  ছিল ঈদ। স্থানীয় সূত্রে থবর, বাড়ির পাশেই একটি মাঠে খেলা চলছিল। শিশুটিকে কোলে নিয়ে সেখানেই ছিলেন মা। হঠাত্‍ মায়ের কোল থেকে তাকে নিয়ে বাঁশবাগানের দিকে চলে যান শিশুটির বাবা।  এরপর বাড়িতে এনে শিশুটিকে শুইয়ে দেন বিছানায়। বলেন  ছেলে ঘুমোচ্ছে।

    পরে শিশুটির মা টুম্পা বিবির কেমন যেন সন্দেহ জাগে। তিনি তড়িঘড়ি  ছেলের কাছে যান। গিয়ে দেখেন শিশুর নিথর দেহ বিছানায় শোয়ানো। তিনি সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি জুড়ে দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি শিশুটিকে নিয়ে ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালে যান। সেখানে শিশুটিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)