• মদ খেয়ে 'বুক ফুলিয়ে' মাধ্যমিক দিতে পরীক্ষাকেন্দ্রে ছাত্র! শেষে...
    ২৪ ঘন্টা | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • রণজয় সিংহ: মদ খেয়ে মাধ্যমিক! পরীক্ষা দিতে এসে হাতেনাতে পাকড়াও ছাত্র। তবে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, ওই পড়ুয়াকে শুধুমাত্র সতর্ক করেছেন পর্ষদের আধকারিকরা। বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন এমন আচরণ না করে। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহে।

    সোমবার থেকে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক। প্রথমদিন ছিল বাংলা পরীক্ষা। মালদহের পরীক্ষাকেন্দ্রে তিনতলায় ঘরে পরীক্ষা চলছিল। হঠাত্‍-ই তীব্র মদের গন্ধ! সন্দেহ হয় কর্তব্যরত এক শিক্ষিকা। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি মধ্যশিক্ষা পর্ষদনিযুক্ত আধিকারিকদের জানান তিনি। এরপর ওই পড়ুয়াকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসা করা হয়। তখন নাকি সে স্বীকার করে যে, পরীক্ষা দিতে আসার আগে মদ্যপান করেছিল সে। ঘরের একদম শেষের দিকে বসিয়ে তার পরীক্ষা নেওয়া হয়। 

    জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রের বাড়ি মালদহ শহরেই। শহরের একটি নামী স্কুলের ছাত্র সে। অন্য একটি মাধ্যমিকের সিট পড়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক পরীক্ষাকেন্দ্র এসে ওই ছাত্রকে বকুনি দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেন।

    এদিকে এই ঘটনার দানা বেঁধেছে বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, মাধ্যমিকের মতো পরীক্ষায় মদ্যপ অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও কেন ওই পড়ুয়াকে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হল না? সমাজকর্মী হাসিনা পারভিন বানু বলেন, 'মাধ্যমিক পরীক্ষা কোনও তামাশা নয়। মদ্যপ অবস্থায় পরীক্ষা দিতে আসা মানে সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত'। তাঁর মতে, 'পরিবার, স্কুল এবং প্রশাসনের দায়িত্ব এড়ানোর ফলেই এমন ঘটনা ঘটছে'।  প্রবীণ শিক্ষক ডক্টর অভিজিৎ আচার্য বলেন, 'এটি নিছক শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, বরং গভীর সামাজিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত। এমন ঘটনায় কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে'।

    এদিকে দু্গাপুরে সাপের ছোবলে পরীক্ষাকেন্দ্রেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এক ছাত্রী। নাম, বর্ষা বাগদি। দুর্গাপুরের গোপালপুর গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী সে। যেদিন মাধ্যমিক শুরু হয়, সেদিন সকালে সাপে কামড়ায় বর্ষাকে। সাপের কামড়া খাওয়ার পরেও যথারীতি পরীক্ষা দিতে যায়। তখনও পরীক্ষা শুরু হয়নি। পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনো পর, হঠাত্‍-ই অসুস্থ হয়ে পড়ে বর্ষা।   দ্রুত ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়া হয় দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে। সেখানেই চিকিত্‍সা চলছে তার। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। হাসপাতালে বেডে বসেই পরীক্ষা দিয়েছে বর্ষা।

    এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে কলকাতা পুলিস। জানানো হয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে গিয়ে কোনও সমস্যায় পড়লে পরীক্ষার্থীরা হেল্পলাইন নম্বর ৯৪৩২৬১০০৩৯-এ ফোন করতে পারবেন। প্রয়োজনে পুলিশকর্মীরা সরাসরি সাহায্যে এগিয়ে আসবেন। পরীক্ষার্থী যদি বাড়িতে অ্যাডমিট কার্ড ফেলে আসেন বা দেরিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর আশঙ্কা থাকে, সে ক্ষেত্রেও মিলবে পুলিশি সাহায্য ।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)