• ভোটমুখী বাংলায় বিরাট আপডেট! ছাড় নয় রাজ্যের কোনও IAS-IPS-কে! স্বরাষ্ট্র সচিব সহ ২ কমিশনারকেও... কমিশনের বড় সিদ্ধান্ত...
    ২৪ ঘন্টা | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অর্কদীপ্ত মুখার্জি: আসন্ন নির্বাচনে অবজার্ভার হিসাবে কাজ করার জন্য কোনও আইপিএস এবং কোনও আইএএস অফিসারকেই ছাড় দেওয়া হল না জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। আগামীকাল এবং পরশু, জাতীয় নির্বাচন কমিশনে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দুদিনের যে প্রশিক্ষণ রয়েছে, তাতে রাজ্য থেকে মোট ২৫ জন আইএএস এবং আইপিএস অফিসারকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফ থেকে। আসন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় অবজার্ভার হিসাবে কাজ করার জন্য এদের বাছা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন আইএস এবং ৮ জন আইপিএসকে ছাড় দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল নবান্ন। কিন্তু সেই আরজি প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয়  নির্বাচন কমিশন। এরফলে স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা-সহ দুই কমিশনারকেও হাজিরা দিতে হবে প্রশিক্ষণে। 

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, আইপিএস এবং আইএএস মিলিয়ে মোট ১৭ জনের নামের বিকল্প নাম পাঠানো হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। কিন্তু কোন সদুত্তর জাতীয় নির্বাচন কমিশন থেকে না পাওয়ায় গতকাল রাতে ফের রাজ্যের মুখ্যসচিব জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি দেন। তাতে অন্তত ৪ জনকে ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। তাদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা ছিলেন। প্রবীণ ত্রিপাঠী, সুনীল চতুর্বেদী, রাজেশ কুমার যাদব এই তিনজন আইপিএস অফিসারও ছিলেন। কিন্তু কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, সারা দেশ জুড়ে ১৭০ জন আইএস ও আইপিএস-এর নাম রিপ্লেসমেন্টের জন্য অনুরোধ এসেছিল নির্বাচন কমিশনের কাছে। চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তখনই অন্য রাজ্যে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে যেতে হবে রাজ্যের ২৫ IAS-IPS অফিসারকে! 

    উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন সূত্রে যা খবর, তাতে মনে করা হচ্ছে যে রাজ্যে এক দফাতেই হবে বিধানসভা ভোট। ২০২৬ সালের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার বুথকে স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এই স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা বাড়তেও পারে। সাম্প্রতিক অতীতে কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে নির্বাচনকে সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য যে প্যারামিটার ছিল, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই প্যারামিটারকে ভেঙে নতুন মানচিত্র ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথের ভিতরে এবার থাকবে দুটি ক্যামেরা এবং বুথের বাইরে একটি ক্যামেরা। এছাড়া বাকি বুথগুলোতেও থাকবে ক্যামেরা। ভিতরে ও বাইরে একটি করে ক্যামেরা থাকবে। 

    নাকা চেকিংয়ের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। সেখানেও প্রতি ক্ষেত্রে থাকবে একটি করে ক্যামেরা। এর সঙ্গেই থাকবে মোবাইল ভ্যান। যার মাথাতেও লাগানো থাকবে একটি করে ক্যামেরা। এইসব ক্যামেরায় ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে লাইভ ওয়েবকাস্টিং করা হবে। সবমিলিয়ে যে পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত এগিয়েছে, তাতে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যে এক দফায় হতে চলেছে বলেই ইঙ্গিত নির্বাচন কমিশন সূত্রে। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ। এসআইআর পর্ব মিটে গেলেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। 

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)