মৌমিতা চক্রবর্তী: এসআইআর-এ রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে এদিন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজে সওয়াল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। 'ঐতিহাসিক' তাঁর এই সওয়াল ঘিরে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। বাঘা বাঘা আইনজীবীদের দাঁড় করিয়ে রেখে নিজে সওয়াল করেন মমতা। সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে 'হাজিরা' ও সওয়াল, নজিরবিহীন এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই আপিল নিয়েই এবার উলটো সুর শোনা গেল সিপিআই(এমএল)-এর গলায়।
মমতার আপিলে উলটো সুর লিবারেশনের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপিল পর্ব নিয়ে সিপিআইএমের উল্টো সুর লিবারেশনের। একদিকে যখন সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গোটা পর্বকে "নাটক" বলে উল্লেখ করেছেন তখন তাঁদেরই জোট সঙ্গী লিবারেশনের গলায় ভিন্ন সুর। তবে এটাই প্রথম নয়। এর আগেও লিবারেশন নেতৃত্বের গলায় ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছিল। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বাম অতিবাম নেতৃত্ব "নো ভোট টু বিজেপি" ক্যাম্পেনের ডাক দিয়েছিল। যাঁর প্রভাবে তৃণমূল লাভবান হয়েছিল। এবার ছাব্বিশের ভোটবাক্সেও কি সেই একই প্রভাব পড়বে? তৃণমূল ইতিমধ্যেই দাবি করছে যে, আজকের মমতার সওয়াল ঐতিহাসিক। আর এই কারণেই এবার ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের আসনসংখ্যা ২৫০ পার করে যাবে! এখন বাস্তবেও রেজাল্ট সেটা বলে কিনা, তার উত্তর দেবে সময়।
সুপ্রিম কোর্টে মমতা কী বলেন...
মমতা বলেন, নির্বাচন কমিশন ২০২৫-এর ২৪ জুন ও ২৭ অক্টোবর ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যে বিজ্ঞপ্তিগুলো দিয়েছিল, সেগুলো বাতিল করতে হবে। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন যেন ২০২৫ সালের বিদ্যমান ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই করা হয়। নামের বানান বা ছোটখাটো অমিলের জন্য যেন ভোটারদের শুনানিতে ডাকা না হয়। ভোটার তালিকায় যাঁদের নামে অসঙ্গতি আছে বা যাঁদের তথ্য অসম্পূর্ণ, তাঁদের নামের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করতে হবে। শুধু নামের বানানে ভুলের জন্য যাঁদের শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে। কোনও বৈধ ভোটারকে যেন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া না হয়। বিশেষ করে ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে মিল আছে, এমন কাউকে যেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা না হয়। ভোটারদের পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ডকে গুরুত্ব দিতে হবে। ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার জন্য কারা আবেদন করেছে, তা অনলাইনে জানাতে হবে। ভেরিফিকেশনের সময় রাজ্য সরকারের দেওয়া সব বৈধ নথিপত্র গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাকে কেন টার্গেট?
এদিন সুপ্রিম কোর্টেও বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে সওয়ালে 'গর্জে' ওঠেন মমতা। সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে কেন্দ্র-পরিচালিত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিসন তথা SIR-কে তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'অসমে কেন এসআইআর হচ্ছে না? শুধু বাংলাকেই কেন টার্গেট করা হচ্ছে? কেন এসআইআর নিয়ে অযথা এত তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে? যে ৩ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে! বাংলায় যখন উৎসবের আবহ তখন তাদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে! কেন এসব শুধু বাংলাতেই? অসমে নয় কেন?'