• মাদক কারবার রুখতে আরও কঠোর পুলিশ
    এই সময় | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, খড়্গপুর: বেআইনি চোলাই মদ, গাঁজা-আফিমের মতো মাদকের বিরুদ্ধে এ বার কড়া হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। এমনকী, রাস্তার ধারে থাকা ধাবাতেও বেআইনি ভাবে মদ বিক্রির অভিযোগ উঠলে করা হবে কড়া পদক্ষেপ। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালি পাচার রুখতেও রাখা হচ্ছে কড়া নজরদারি। একই ভাবে ক্যারিং অর্ডার নিয়ে একাধিক বার বালি বহন থেকে ওভারলোড করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে- প্রতিটি থানাকে এমনই নির্দেশ দিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের নতুন পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালি।

    পুলিশ সুপার বলেন, 'জেলায় কোনও রকম বেআইনি মাদক বা বেআইনি কারবার চলবে না। কড়া হাতে তা মোকাবিলা করা হবে।' পুলিশ জানিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর, ডেবরা, পিংলা, সবং- বিভিন্ন এলাকায় এক সময়ে মাদকের রমরমা শুরু হয়েছিল। এমনকী, মাদকের কারবারে বাধা দেওয়ায় খড়গপুরের এক সমাজসেবীর বাড়ির সামনে রাখা গাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেওয়ার পরেই খড়্গপুরে শুরু হয় জোরদার তল্লাশি।

    ট্রাকে করে গাঁজা পাচারের সময়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে দুষ্কৃতীরা। তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে, এই গাঁজা পাচার চক্রটি আন্তঃরাজ্য পাচারকারীদের সঙ্গে যুক্ত। এমনকী, খড়গপুর থেকে একাধিক বেআইনি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া পুলিশ এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের চেষ্টায় কেশিয়াড়ি, দাঁতন এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি বেআইনি বালির গাড়িও ধরা পড়ে। বর্তমানে রাস্তার ধারে থাকা বহু ধাবায় এখন বেআইনি মদ বিক্রির রমরমা কমেছে বলে পুলিশের দাবি। মাদক পাচারকারীরাও কিছুটা থমকে গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    পুলিশ সূত্রের খবর, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালি পাচারের একটি চক্রও বেশ সক্রিয় হয়েছিল জেলায়। অভিযোগ, একটি অংশ দাঁতন বা কেশিয়াড়িতে অবস্থিত সুবর্ণরেখা নদীর খাদান থেকে বালি নিয়ে নানা ভাবে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিত। মূলত, দু'টি পদ্ধতিতে এই কাজ করা হতো। বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরের ক্যারিং অর্ডার নিয়ে বালি বিক্রি করা হতো আশপাশের এলাকায়। যেহেতু দূরত্বে পৌঁছতে সময় বেশি লাগে তাই ক্যারিং অর্ডারে দেওয়া সেই সময়ে পুনরায় বালি বহন করে দু'তিন বার বিক্রি করা হতো। একবার সরকারি রাজস্ব দিয়ে একাধিক বার মুনাফা লুটত বেআইনি ব্যবসায়ীরা। তা ছাড়া ১২-১৮ টন বালির ক্যারিং অর্ডার নিয়ে ৩০-৩৫ টন বালি বহন করেও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিল। পুলিশ সুপারের নির্দেশে এই দু'টি ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এ ভাবে মাদক ও বেআইনি বালি পাচারের বন্ধ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)