• পানীয় জলের সমস্যা আদৌ মিটবে এ বছর?
    এই সময় | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • পুলক বেরা, তমলুক

    পরিশ্রুত পানীয় জল পাবে তমলুক, এই লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল 'অনুত জল প্রকল্প'-এর কাজ। ২০২৬-এ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যে ভাবে প্রকল্প পুরণের কাজ চলছে তাতে সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জলের সমস্যা রয়েছে তমলুকে। স্থানীয়দের দাবি মেনে ২০২৪-এ সরকারি ভাবে অদ্ভুত প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কাজের ভার্চুয়াল শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    প্রথমে নির্ধারিত হয়েছিল, নন্দকুমার ব্লকের ইচ্ছাপুর এলাকা থেকে জল তোলা হবে। কিন্তু পরে দেখা যায়, ওই এলাকার নদীর গভীরতা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে জল তোলায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, মহিষাদল ব্লকের অমৃতবেড়িয়া এলাকায় জল তোলার ইনটেক পয়েন্ট স্থাপন করা হবে। ওই স্থান থেকে জল তুলে পাইপলাইনের মাধ্যমে তমলুক শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চড়ার শঙ্করআড়া এলাকায় তৈরি হতে থাকা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে নিয়ে যাওয়া হবে।

    সেখানেই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জল পরিশোধন করে শহরের তিনটি স্থানে তৈরি ওভারহেড রিজ়ার্ভারে পাঠানো হবে। এর পরে ওই রিজার্ভারগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশ্রুত জল পৌঁছে যাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, অদ্ভুত জল প্রকল্পের জন্য প্রায় ১০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এই বিপুল বাজেটের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ইনটেক পয়েন্ট, আধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, দু'টি সাড়ে সাত লক্ষ লিটারের ও একটি আট লক্ষ লিটারের ওভারহেড রিজার্ভার। ইতিমধ্যে শহরের একাধিক ওয়ার্ডে পাইপলাইন পাতার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।

    যদিও প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশ কিছু বাধা আসায় বেশ কয়েকটি এলাকায় এখনও কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছে। গত বছরের মার্চ মাসে অমৃতবেড়িয়া এলাকায় ইনটেক পয়েন্ট তৈরির কাজ শুরু হতেই স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেন। ফলে কাজ থমকে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরসভার পক্ষ থেকে মহিষাদল থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। এর ফলে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে কাজ, এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।

    যদিও এখন সেই জট কাটতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন তমলুক পুরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চঞ্চলকুমার খাঁড়া। তিনি বলেন, 'ইনটেক পয়েন্ট নিয়ে সমস্যা হয়েছিল, বর্তমানে মিটে গিয়েছে। আমরাও চাই দ্রুত কাজ শেষ হোক।' এ দিকে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে জলের তীব্র সঙ্কট দেখা যায়। তাই অদ্ভুত প্রকল্প দ্রুত শেষ না হলে আগামী বছরগুলিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পুরবাসী। ইতিমধ্যে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এত ধীরগতিতে কাজ হলে তা শেষ হবে কী করে। তমলুক পুরএলাকার বাসিন্দা অমিয় ঘোষ বলেন, 'প্রকল্প উদ্বোধনের পরে যে ভাবে কাজের গতি দেখেছিলাম এখন অনেকটাই থমকে গিয়েছে। ২০২৬-এ কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে।' একই মত শ্যামলকুমার প্রামাণিকেরও।

  • Link to this news (এই সময়)