• 'মডেল' হবে চুনি কোটালের গ্রাম, পুলিশের উদ্যোগে স্বাস্থ্য শিবির
    এই সময় | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, শালবনি: সকাল থেকে গ্রামে বেশ উৎসবের মেজাজ। পুলিশের কর্তাব্যক্তিদের আনাগোনা। বড় বড় হাঁড়ি-কড়াইয়ে রান্না হচ্ছে ভালোমন্দ সব খাবার। শামিয়ানা খাটিয়ে চেয়ার টেবিল পেতে খাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। প্রথমে দেখে মনে হতেই পারে বিয়ে বাড়ি। কিন্তু শালবনির লোধা-শবর অধ্যুষিত এই গ্রামে বিয়ে-শাদিতেও এত আয়োজন হয় না। অনেকেই তাই সকাল থেকে কৌতূহলী হয়ে উঠেছিলেন। জানা যায়, সেখানে স্বাস্থ্য শিবির হচ্ছে। সঙ্গে ভুরিভোজ। আজ পান্তা খেয়ে দিন কাটাতে হবে না ভেবেই মনটা খুশিতে ভরে গিয়েছিল সুনীতা, মংলুদের।

    পুলিশকর্মীরা আগেই শালবনির এই পাথরকুসুম গ্রামে স্বাস্থ্যশিবির হবে বলে প্রচার করে গিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এই পাথরকুসুমেই এত আয়োজন কেন? এই গ্রামের সঙ্গেই যে জড়িয়ে রয়েছে লোধা-শবরদের এক গর্বের নাম, ট্র্যাজেডিরও! এই গ্রামের মেয়ে চুনি কোটাল প্রথম শবর মহিলা, যিনি স্নাতক হয়েছিলেন। তবে এটা যেমন একদিকে গর্বের তেমনই এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি দুঃস্বপ্নের ঘটনাও। পুলিশ সূত্রেই জানা গিয়েছিল, ১৯৯২-এর ১৬ অগস্ট চুনি আত্মহত্যা করেছিলেন। উচ্চবর্ণের অধ্যাপকদের একাংশের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল সেই সময়ে। তাই নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা রাজ্যে।

    তারপরেই তৎকালীন রাজ্য সরকার এই পাথরকুসুম গ্রামের উন্নয়নে তৎপর হয়। শুরু হয় একাধিক সচেতনতা মূলক কর্মসূচি। বর্তমানে চুনি কোটালের গ্রামকে 'মডেল গ্রাম' হিসেবে গড়ে তুলতে শুরু হয়েছে একাধিক কাজ। বুধবার তারই অংশ হিসেবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। শুধু স্বাস্থ্য পরীক্ষাই নয়, ছিল খাওয়াদাওয়ার আয়োজনও। যাঁরা স্বাস্থ্য শিবিরে পরীক্ষা করাতে এসেছেন তাঁদের সকলকে পাত পেড়ে খাওয়ানো হয়েছে। পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালি নিজে হাতে খাবার পরিবেশন করেছেন। যে কমিউনিটি স্বাস্থ্যশিবির করা হয়েছিল সেটির নামকরণও করা হয়েছে চুনি কোটালের নামে।

    জানা গিয়েছে, শিবিরে প্রায় ২৫০ জন গ্রামবাসী স্বাস্থ্যপরীক্ষা করান। পুলিশ সুপার বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার পাশাপাশি পুলিশ সারা বছর ধরেই নানা মানবিক ও জনসংযোগমূলক কর্মসূচি করে থাকে। এটি তারই একটি অংশ।' তিনি আরও জানান, লোধা-শবর ও জনজাতি অধ্যুষিত গ্রামের মানুষের দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্য দপ্তরও এতে সহযোগিতা করেছে। পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, 'এর আগে ২০১০-এ তৎকালীন পুলিশ সুপার মনোজ ভার্মা স্বাস্থ্য শিবির ও খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেছিলেন। মাঝেমধ্যে এই ধরনের কর্মসূচি হলে গ্রামের মানুষের উপকার হয় এবং পুলিশের সঙ্গে বাসিন্দাদের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়।'

  • Link to this news (এই সময়)