নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আর মাত্র মাস কয়েকের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে দিল্লিতে এসে কার্যত ঝোড়ো ইনিংস খেলে গেলেন, তাতে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার আগেই রীতিমতো বেসামাল রাজ্য বিজেপি।অস্বস্তি এতই চরমে উঠেছে যে, বুধবার দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বঙ্গ ব্রিগেডের দু’জন শীর্ষ নেতাকে দিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করাতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছে গেরুয়া শিবির। সাংবাদিকদের প্রশ্ন সামলাতে ডেকে আনা হয়েছে রাজ্য বিজেপির সভাপতি রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এবং বালুরঘাটের সাংসদ কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে। কিন্তু এদিনের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোকাবিলা ঠিক কোন পথে হবে, তা নিয়ে দৃশ্যতই এদিন দিশাহীন বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতারা। বরং বুধবারের সাংবাদিক বৈঠকে শমীকবাবু এবং সুকান্তবাবু অনেক বেশি ব্যস্ত থেকেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করার উপরই। এটিই তাঁদের দলীয় অবস্থান। অর্থাৎ, নতুন কোনো দিশানির্দেশ এদিন তাঁরা দেখাতে পারেননি। সুপ্রিমে কোর্টের কথোপকথনের কিছু অংশ বারবার তুলে ধরে আদতে শমীক-সুকান্ত বোঝাতে চেয়েছেন যে, আদালতকক্ষে তৃণমূল সুপ্রিমোর কোনো ‘হিরোইজম’ হয়নি।এদিন রাজ্য বিজেপির দু’জন শীর্ষ নেতা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরোটাই করছেন দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। সুপ্রিম কোর্টে তিনি যা করেছেন, তা একটি নাটক ছাড়া কিছুই নেই। যথাযথ প্রপস এবং কস্টিউম সমেত তিনি একটি নাটক মঞ্চস্থ করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা তাঁকে ভদ্র ভাষায় চুপ করতে বলেছেন। বাংলার মানুষ এই চাতুরিবোঝেন। এদিন শমীক, সুকান্ত দু’জনেই বলেছেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের কোনোমতেই বাংলায় থাকতে দেওয়া হবে না। ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্টের অবস্থানই নেওয়া হবে। রাজ্যে এসআইআরের কারণে মৃত্যুর ব্যাপারে কোনো অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা পড়েছে কি? রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বিজেপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে যতই ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভাব দেখান না কেন, রাজ্যে মূলত দলের নিচুতলার নেতাকর্মীদের যে এব্যাপারে নির্দিষ্ট বার্তা দিতেই হবে, তা বিলক্ষণ জানে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তাই সেইমতো প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় পার্টি বঙ্গ ব্রিগেডকে নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে দিল্লিতে রাজ্য বিজেপির সাংসদদের সঙ্গেজরুরি বৈঠকেও মমতার দিল্লি-সফর নিয়ে কথা বলেছেন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। আবার বুধবার রাতে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব দীর্ঘ বৈঠক করেছেন সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে। দলীয় সূত্রের দাবি, রাজ্য বিজেপির প্রত্যেক সাংসদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী পর্যবেক্ষক। প্রত্যেক এমপির কাছে পৃথক ‘হোম টাস্ক’ যাবে। সেইমতো করতে হবে পদক্ষেপ।