• ইতিহাসের সাক্ষী হতে ভেঙে পড়ল গোটা দিল্লি
    বর্তমান | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এ যেন এলেন-দেখলেন-জয় করলেন! ৩০ বছর পর আবার তিনি এজলাসে। তাও আবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। ৪৪ বছর আগে কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজ থেকে আইন পাশ করা ছাত্রীকে নিয়ে মঙ্গলবার থেকেই আলোচনার পারদ চড়ছিল। বুধবার সকাল ১০টার কিছু আগে তিনি পা রাখেন সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে। পরনে সবুজ সরু পাড়ের সাদা শাড়ি, সাদা সোয়েটারের সঙ্গে গলায় কালো মাফলার আর পায়ে চিরপরিচিত হাওয়াই চটি। তখনই বোঝা যাচ্ছিল গোটা দেশ এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকতে যাচ্ছে। দেশের প্রধান বিচারপতির এজলাসে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। বেলা গড়াতেই যখন আইনজীবীদের ভিড় থেকে ভেসে এল তাঁর গলা, ‘মাই লর্ড...!’ সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস গড়ে ফেললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাধীনতার পর দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং ‘সওয়াল’ করলেন সুপ্রিম কোর্টে। তাও আবার নিজেরই দায়ের করা মামলায়। আর সে কাজ তিনি এত দক্ষতার সঙ্গে করলেন যে, স্বয়ং প্রধান বিচারপতিকে পর্যন্ত হালকা চালে বলতে হল, ‘মিস্টার সিবাল (রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিবাল), আজ আপনার রেস্ট নেওয়া উচিত!’আইটেম নম্বর ৩৭—এদিন সুপ্রিম কোর্টের তালিকায় এটাই ছিল ত্রুটিপূর্ণ এসআইআরের বিরোধিতায় মমতার করা মামলার ‘পরিচয়’! বাংলার অগ্নিকন্যা নিজে সুপ্রিম কোর্টে আসছেন জেনে গোটা এলাকা সকাল থেকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। একদিকে তিলক মার্গ, অন্যদিকে ভগবান দাস রোডে মোতায়েন করা হয় দিল্লি পুলিশ আর কেন্দ্রীয় বাহিনী। সংবাদমাধ্যম তো বটেই, অন্য মামলার শুনানিতে হাজির সাধারণ মানুষ, আইনজীবী, গাড়ির চালক, ক্যান্টিন বয়, জুতো পালিশওয়ালা... সবার মধ্যেই ছিল কৌতূহল। সুপ্রিম কোর্ট করিডরে জমে যায় আইনজীবীদের ভিড়। মমতা এক নম্বর এজলাসে ঢুকে বসেন এক্কেবারে পিছনে। ভিড়ে ঠাসা কোর্টরুমে একজন মোবাইলে তাঁর ছবি তোলেন। তা দেখতে পেয়েই মোবাইলটি কেড়ে নেয় পুলিশ। ছবি ডিলিট করিয়ে তবে সেটি ফেরত দেওয়া হয়। শুনানি শেষে যখন মুখে কার্যত জয়ের হাসি নিয়ে বেরলেন মমতা, তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে ভিড় জমে গেল। যদিও সোজা গাড়িতে উঠে তিনি বিমানবন্দর রওনা হন। পিছনে তখন ছুটছেন সাধারণ মানুষ থেকে সাংবাদিক...। বিশেষ সূত্রে খবর, সোমবারের শুনানিতেও মমতা হাজির থাকবেন সুপ্রিম কোর্টে।
  • Link to this news (বর্তমান)