• এক বছরে জলপাইগুড়ি মেডিকেলে ২২০০ ক্যানসার রোগী, সুপুরি-গুটখা নিয়ে উদ্বেগ
    বর্তমান | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে জলপাইগুড়িতে। গত এক বছরে শুধুমাত্র জলপাইগুড়ি মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ২২০০ ক্যানসার রোগী। ব্রেস্ট, গলব্লাডার কিংবা সার্ভিক্স ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনই জলপাইগুড়িতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ওরাল বা মুখগহ্বরের ক্যানসার। এনিয়ে বুধবার বিশ্ব ক্যানসার দিবসে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জলপাইগুড়ি মেডিকেলের চিকিৎসকরা।উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের মধ্যে গুটখার পাশাপাশি সুপুরি খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা ওরাল ক্যানসারের আশঙ্কা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করেন জলপাইগুড়ি মেডিকেলের ক্যানসার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক-চিকিৎসক রাহুল ভৌমিক। সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে ক্যানসার যে সেরে যায়, এমনকী অনেক ক্ষেত্রে অপারেশনেরও প্রয়োজন পড়ে না। এদিন জলপাইগুড়ি মেডিকেলের তরফে সেই বার্তা দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে অসুখের সঙ্গে লড়াই করার সাহস জোগাতে পাশে থাকার বার্তা দিয়ে হাসপাতালে রোগীদের হাতে ফুল-মিষ্টি তুলে দেন চিকিৎসকরা।জলপাইগুড়ি মেডিকেলে সপ্তাহে পাঁচদিন ক্যানসারের আউটডোর চলার পাশাপাশি এখান থেকে নিখরচায় কেমোথেরাপি, ক্যানসার আক্রান্তদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার, ফিজিওথেরাপি ইউনিট, কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানানো হয়। তবে জলপাইগুড়ি মেডিকেলে এখনও এমআরআই পরিষেবা চালু না হওয়ায় এবং রেডিয়েশনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে হয়রানি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ আক্রান্তদের।জলপাইগুড়ি মেডিকেল সূত্রে খবর, গত এক বছরে এখানে চিকিৎসার জন্য এসেছেন এমন ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা ২১৩৭ জন। এর মধ্যে ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৪০১ জন। ওরাল ক্যানসারে আক্রান্ত ৪০ জন চিকিৎসা পেয়েছেন এই হাসপাতালে। জলপাইগুড়ি মেডিকেলে গত এক বছরে সার্ভিক্স বা জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত ৪৩ জনের চিকিৎসা হয়েছে। এছাড়া শরীরে নানা ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত এমন ১৬১৮ জনকে গত এক বছরে চিকিৎসা দিয়েছে জলপাইগুড়ি মেডিকেল।জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত হলদিবাড়ির বাসিন্দা বছর পঞ্চান্নর প্রতিমা রায় জলপাইগুড়ি মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। ছেলে তুষার ছোটখাট ব্যবসা করেন। বললেন, এক বছর আগে মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ে। প্রথমে বেসরকারিভাবে চিকিৎসা শুরু করাই। তারপর খরচে কুলোতে না পেরে জলপাইগুড়ি মেডিকেলে ভর্তি করি। এখান থেকে নিখরচায় কেমো মিলছে। সঙ্গে দামী ইঞ্জেকশন। এখন অনেকটাই সুস্থ আছে রোগী। মোহিতনগরের বাসিন্দা বছর পঞ্চাশের মিনতি রায় জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি জলপাইগুড়ি মেডিকেলে। তাঁর দিনমজুর ছেলে প্রদীপ রায় বলেন, সরকারি হাসপাতালে মায়ের ছ’টি কেমো হয়েছে। সবটাই নিখরচায় পাচ্ছি। দেড় বছর ধরে চিকিৎসা চলছে। মা আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ।জলপাইগুড়ি মেডিকেলের ক্যানসার বিভাগের চিকিৎসকদের দাবি, অনেক পরিবারের ধারণা আছে, ক্যানসারের চিকিৎসা মানেই ভেলোর, মুম্বই কিংবা বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যেতে হবে। এটা ভুল ধারণা। ক্যানসার চিকিৎসার গাইড লাইন সব জায়গাতেই এক। এরাজ্যের সরকারি হাসপাতালে খুব ভালোভাবেই নিখরচায় ক্যানসার চিকিৎসা হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)