নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মদ খেয়ে বেলেল্লাপনার প্রতিবাদ করে রক্তাক্ত হলেন এক মহিলা। ঘটনার পরে তিনদিন কেটে গেলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ক্ষোভে ফের পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রতিবাদী ওই মহিলা।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ির মাদানি বাজার এলাকায় ভাড়া বাড়িতে দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে থাকেন সঙ্গীতা সাহু নামে এক গৃহবধূ। সংসার চালাতে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। তিনি যে বাড়িতে ভাড়া থাকেন সেই বাড়িতে অপর একটি ঘরে ভাড়া থাকে অভিযুক্ত। তার ওই এলাকায় বাড়ি থাকলেও সে ঘরভাড়া নিয়ে রেখেছে। সে ভাড়া ঘরে মদের আসর বসায়। মহিলার দাবি, দিন হোক কিংবা রাত, যখন তখন ভাড়া ঘরে মদ থেকে শুরু করে নানা ধরনের নেশার আসর বসায় অভিযুক্ত। মাঝেমধ্যে একাধিক মহিলাকে ভাড়া বাড়ির ঘরে নিয়ে আসে। বাড়ির মালিক বাড়িতে না থাকাতে তাঁকে বহুবার এই বিষয়ে জানিয়েছিলেন নিগৃহীতা। তবে তাঁর কথা শুনে অভিযুক্তকে প্রশ্ন করতেই সে সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে বলে বারবার দাবি করার মালিক আর বেশিকিছু বলেন না। তবে মালিক এ ব্যাপারে কখনো জিজ্ঞাসা করলে তখন কয়েকদিন অভিযুক্ত বহিরাগত লোকজনকে নিয়ে আসা বন্ধ রাখে।১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ওই মহিলা বাড়িতে এসে দেখেন, অভিযুক্ত নিজের ভাড়ার ঘরে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এসে নেশার আসর বসিয়েছে। ওরা চিৎকার-চেঁচামেচি করায় তাঁর তিন বছরের ছেলে কান্নাকাটি করে। এরপরেই তিনি অভিযুক্তের ঘরের বাইরে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু তাতে কান দেয়নি। পরে দরজার কড়া নেড়ে অভিযুক্তকে বাইরে আসতে বলেন। চিৎকার চেঁচামেচি না করার অনুরোধ জানান। বাইরে এসেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করে অভিযুক্ত। সে আক্রমনাত্মক হয়ে যায়। প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে, পরে তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ। ওই সময় ঘরের ভিতরে থাকা সাঙ্গপাঙ্গদেরও বাইরে ডেকে আনলে তারাও ওই মহিলার উপর চড়াও হয়। তাদের বেধড়ক মারে মহিলার মাথা, কান, নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করে।ওই গৃহবধূর অভিযোগ, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন তাঁর হাতে কামড়ে দেয়। ঘটনার পরে ধীরে ধীরে আশেপাশের মানুষ জড়ো হতে শুরু করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এমনকি যাওয়ার সময়ে তাঁর গলায় থাকা একটি সোনার চেন ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপরেই প্রতিবেশীদের সাহায্যে চিকিৎসা করিয়ে এনজেপি থানার দ্বারস্থ হন তিনি। তবে ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেও অভিযুক্তরা অধরা থাকায় তিনি নিরাপত্তাহীনতা বোধ করতে শুরু করেছেন।বুধবার ফের পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ গ্রেপ্তার না করায় মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে নিজের ভাড়া ঘরের দরজা খুলে অভিযুক্ত তার জিনিসপত্র গুটিয়ে পালিয়েছে। আক্রান্ত ওই বধূ বলেন, পুলিশের কাছে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি। ১৪ ও তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে আমি ওই বাড়িতে থাকি। অভিযুক্তরা ধরা না পড়া পর্যন্ত নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি।এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। শীঘ্রই ধরা পড়বে। • আক্রান্ত গৃহবধূ। - নিজস্ব চিত্র।