দার্জিলিংয়ের কমলার রূপ-রস-গন্ধ ফেরাতে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে গবেষণা
বর্তমান | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দীর্ঘ তিন দশকের অবহেলা! রূপ, রস, গন্ধ খুঁইয়ে বিপন্ন পাহাড়ের ‘রানি’ কমলা। ফলন কমছে। রানির সেই আভিজাত্য ফিরিয়ে দিতে তৎপর উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তারা এ ব্যাপারে গবেষণা শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দার্জিলিং পাহাড় ঘুরে রোগমুক্ত কমলা গাছ থেকে টিস্যু বা কোষকলা সংগ্রহ করেছে।কোচবিহার জেলার পুণ্ডিবাড়িতে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দেবব্রত বসু বলেন, দার্জিলিংয়ের কমলার সুদিন ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্যই রোগমুক্ত নতুন কমলা গাছের চারা তৈরি করতে গবেষণা শুরু হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যেই এ ব্যাপারে সাফল্য মিলবে বলেই আশা করছি।টি ও ট্যুরিজমের পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের কমলার সুনাম বিশ্বজোড়া। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছে শীতকালীন এই ফল পাহাড়ের ‘রানি’ বলে পরিচিত। আগের মতো সেই কদর তামাম বিশ্বে সেভাবে নেই। এর জায়গা দেশের অন্যান্য প্রান্তের কিনো বা কমলা দখল করে নিচ্ছে। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর ধরে কমলার বাগান নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে না। পুরনো গাছ তুলে নতুন গাছ বসানো হয়নি। রোগ-পোকার উপদ্রব বাড়লেও প্রতিরোধে তেমন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরজেরেই এখানকার কমল রূপ, রস, গন্ধ হারিয়ে ফেলেছে।এমন প্রেক্ষাপটে তিন মাস আগে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে জিআই তকমা আদায় করেছে দার্জিলিংয়ের কমলা। এবার পাহাড়ের ‘রানি’র গুণমান ফেরাতে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঝাঁপিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, একদা দার্জিলিং পাহাড়ের কমলার আকার বড় ছিল। খোসা ছিল পাতলা। লেবুর সঙ্গে খোসা আঁঠার মতো লেগে থাকত। এর স্বাদ ছিল অম্লযুক্ত মিষ্টি। রসও হতো প্রচুর। তিন দশক ধরে এখানে কমলা চাষে অধঃপতন শুরু হয়েছে। সেই আকৃতি, রূপ, রস, গন্ধ নেই। কমলার সেই আভিজাত্য ফেরাতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে সমীক্ষা করে রোগমুক্ত ও ভালো ফলনের কমলা গাছ চিহ্নিত করেছে। সেই গাছের ডাল নিয়ে কালিম্পং ও পুণ্ডিবাড়ির ল্যাবরেটরিতে গবেষণা করা হয়। মংপুতে উদ্যানপলান দপ্তরের গবেষণাগারেও এ ব্যাপারে গবেষণা চলছে। বর্তমানে পাহাড়ে প্রায় ৪১৫০ হেক্টর জমিতে কমলা বাগান রয়েছে।কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক জানান, ভালো গাছের টিস্যু থেকে ল্যাবরেটরিতে কমলার গাছ তৈরি করা হবে। প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সেই চারাগুলি পাহাড়ের কোনো নার্সারিতে রাখা হবে। এরপর তা কৃষকদের মধ্যে বিলি করা হবে। এছাড়া রোগহীন অন্য লেবুগাছের সঙ্গে কমলা গাছের ‘ক্রস’ বা মিলন ঘটিয়ে নতুন কমলার চারা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। • ফাইল চিত্র।