বিশ্বভারতীতে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ মামলা হিসাবে গ্রহণ করল এসটি কমিশন
বর্তমান | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যোগ্য প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হচ্ছে না। এই অভিযোগে কয়েকজন অধ্যাপক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই অভিযোগ সামনে আসতেই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। তবে, এসটি শ্রেণিভুক্ত এক পদপ্রার্থী এই বিষয়টি জাতীয় তফসিলি কমিশনের কাছে লিখিতভাবে জানালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এমনকি, সেই অভিযোগ মামলা হিসেবে গৃহীত হয়। বিশ্বভারতী সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ও ১৩ জানুয়ারি বিশ্বভারতীতে অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউয়ের দিন ছিল। কিন্তু, অনিবার্য কারণ দেখিয়ে ইন্টারভিউয়ের একদিন আগেই তা স্থগিত করে দেওয়া হয়। এরপরই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এবিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।অভিযোগকারীদের মধ্যে অন্যতম কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তুষার পটুয়া। তিনি বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক (এসটি) পদে আবেদন করেছিলেন। জানা গিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে তিনি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। বিশ্বভারতীতে ওই পদের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত যোগ্যতা তাঁর রয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের স্ক্রিনিং তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। অভিযোগ, তফসিলি উপজাতি শ্রেণির সহযোগী অধ্যাপক পদের জন্য তিনজন প্রার্থীকে ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়। অথচ সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তুষারবাবুকে ডাকা হয়নি। উল্লেখ্য, এর আগেও একই পদের জন্য তিনি দু’বার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু, কোনো কারণ না দেখিয়েই তাঁর আবেদন বাতিল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এরপরই তিনি এই বিষয়টি জানিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি তথা বিশ্বভারতীর পরিদর্শক এবং প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বভারতীর আচার্যকে চিঠি দেন। পাশাপাশি, মেল করে জাতীয় তফসিলি কমিশনের কাছেও অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার কমিশনে একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ সময়মতো জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রটি গত সোমবার কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ণ মন্ত্রকের দপ্তরে স্থানান্তরিত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।অধ্যাপক তুষারবাবু বলেন, বিশ্বভারতী গোটা বিশ্বে সুনাম অর্জন করেছে। সেই প্রতিষ্ঠানে যদি নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়ে থাকে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। যোগ্য প্রার্থীরা যেন ন্যায্য সুযোগ পান। এটাই আমার দাবি।বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের স্থগিত হয়ে যাওয়া ইন্টারভিউ কবে আয়োজিত হবে, সেবিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা নিয়েও কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফাইল চিত্র