• মাথা নীচু করে প্রেসক্রিপশন লেখার সময় কোপ মারি ঘাড়ে, কোর্টে যাওয়ার পথে সদম্ভ স্বীকারোক্তি ডাক্তার খুনে অভিযুক্তের
    বর্তমান | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘ডাক্তার চেয়ারে বসে প্রেসক্রিপশন লিখছিলেন। মাথা নীচু ছিল। সেই সুযোগে ব্যাগ থেকে কাটারি বের করে ঘাড়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারি। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও একটা কোপ দিয়েছি। উনি মারা গিয়েছেন নিশ্চিত হওয়ার পরই কাটারি নিয়ে থানায় যাই।’ বর্ধমানের বাদামতলায় চেম্বারে ঢুকে গ্রামীণ চিকিৎসককে নির্মমভাবে খুন করার পরও কোনো অনুশোচনা নেই জীবন রুইদাসের। থানা থেকে আদালতে যাওয়ার পথে সে এভাবেই প্রকাশ্যে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে। সে গাড়িতে ওঠার সময় ক্যামেরার সামনে বলে, ‘আমার দিদিমাকে ভুল চিকিৎসা করে উনি মেরেছেন। তাই ওঁকে মেরেছি। ওঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে বেঁচে যেতেন। তাই ওঁকে মেরে ফেলেছি। ৩১ ডিসেম্বর দিদিমা মারা গিয়েছেন। তিনি যাতে আর অন্য কারও ক্ষতি করতে না পারেন, তারজন্যই এমনটা করেছি।’পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে জীবন শক্তিগড়ের আমড়ার বাড়ি থেকে বের হয়। বাসে চেপে কার্জনগেটে আসে। বর্ধমানের একটি দোকানে কাটারি কেনার পর সে ডাক্তারের চেম্বারের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকে। চিকিৎসক একা রয়েছেন কি না, তা ভালভাবে লক্ষ্য করে। চেম্বারে ঢুকে সে চিকিৎসককে বলে, কোমরে ব্যথা হচ্ছে। চিকিৎসক তাকে দেখার পর প্রেসক্রিপশন লিখতে শুরু করেন। তখনই সে পরিকল্পনা মাফিক হামলা করে। পুলিশকে ধৃত জানিয়েছে, ডাক্তার তার থেকে অনেকটাই লম্বা। দাঁড়িয়ে থাকলে হামলা করা যেত না। সেই কারণেই সে চিকিৎসককে বসে থাকার সময় কোপ মারে।এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, খুনের পরও তার কোনো হেলদোল নেই। লকআপে বসে পছন্দের খাবার খেতে চাইছিল। মোটা চালের ভাত তার পছন্দ নয়। ভাল খাবার আনার কথা বলে। সে শক্তিগড় বাজারে মাঝেমধ্যে পেয়ারা বিক্রি করত। এছাড়া, মাঠেও কাজ করতে যেত। তার বাবা ও ভাইও পেয়ারা বিক্রি করে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এমনিতে জীবন শান্ত স্বভাবের। কোনো দিন কারও সঙ্গে অশান্তিতে জড়ায়নি। তবে, মাঝেমধ্যে নিজের মনে বিড়বিড় করত। ছোটবেলায় সে মামারবাড়িতে থাকত। দিদিমাকে খুব ভালবাসত। সেই দিদিমাকে কয়েকবার বর্ধমানের ওই গ্রামীণ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। তার দিদিমার পায়ে ব্যথা ছিল। ৩১ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান। তার ধারণা হয়, ওই চিকিৎসকের ওষুধ খেয়েই দিদিমা মারা যান। এরপরই সে খুনের পরিকল্পনা করে। এদিকে গ্রামীণ চিকিৎসক রাজা ভৌমিকের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চিকিৎসকের আয়েই তাঁর সংসার চলত। তাঁর মৃত্যুতে দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে পরিবার অথই জলে পড়ে গিয়েছে।  ধৃতকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)