নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না। ইসিএল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়ানো শুরু করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলি। আজ, বৃহস্পতিবার ইসিএলের কর্পোরেট জেসিসি মিটিং রয়েছে। ইসিএল কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনের এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের কমিটি। এখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বৈঠকেই শ্রমিক নেতারা বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাবেন। তাঁদের দাবি, কোলিয়ারি এলাকায় ইসিএল বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিতে বাধ্য। কোনো রকম সমাধান ছাড়া হাজার হাজার মানুষকে সংকটে ফেলা মেনে নেওয়া হবে না।শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, খনি অঞ্চলে অন্য কোনও সংস্থা বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে চাইলে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইসিএলের নিয়ম। খনি অঞ্চলে ইসিএলের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ছাড়া অন্য কোনো সংস্থার বিদ্যুৎ নেওয়া যায় না। সেই নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি ইসিএল দেয় না বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ইসিএল বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে হাত গুটিয়ে নিলে বিস্তীর্ণ এলাকায় অন্ধকারে ডুবে যাবে।বৃহস্পতিবার মিটিংয়ে সমস্যাগুলি তুলে ধরবেন শ্রমিক নেতারা।সিপিএম জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আগের জেসিসি মিটিংয়ে ইসিএল যেন অন্য সংস্থার বিদ্যুৎ নিতে পারেন, সেজন্য এনওসি দেওয়ার দাবি জানাতাম। কিন্তু ওরা দিত না। আর এখন তারা বলছে, বিদ্যুৎ দেবে না। তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে? সাধারণ গরিব মানুষের কথা ভাবতে হবে তো। এইচএমএস নেতা শিবকান্ত পাণ্ডে বলেন, কোনোভাবেই ইসিএলের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না। আমরা মিটিংয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাব। সাধারণ মানুষ যাতে বিদ্যুৎ পান সেটা দেখতে হবে। ইসিএল কর্তৃপক্ষ কোলিয়ারি এলাকায় বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিতে বাধ্য।প্রসঙ্গত, খনি অঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিষেবা দিয়ে আসছে ইসিএল। সম্প্রতি ইসিএলের পক্ষ থেকে একটি নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ শাটডাউন থাকবে। ইসিএলের চূড়ান্ত আর্থিক অনটনের জন্য বিদ্যুৎ বিল বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর না হলে আগামী মার্চ মাস থেকে সম্পূর্ণ রূপে শাটডাউন করে দেওয়া হবে।