• মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে অনড় সাফাইকর্মীরা, জঞ্জালে ঢাকছে আসানসোল, বস্তা বস্তা চাল দিয়ে আন্দোলনে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে
    বর্তমান | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে আসানসোলের বাসিন্দাদের। জামুড়িয়া, কুলটি, রানিগঞ্জ সর্বত্র এই অবস্থা। পাঁচদিন ধরে সাফাইকর্মীরা শহরের জঞ্জাল সাফাই করছেন না। রাস্তা, বাজারে আবর্জনার স্তূপ। আসানসোল পুরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা আবর্জনায় ঢেকেছে। পুর কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় সাফাইকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন দাবি মেনে নেওয়ার পরও একাংশের অনড় মনোভাবে কাজ শুরু হয়নি। তাঁদের দাবি, মাসে ১৫হাজার টাকা বেতন নিশ্চিত করতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের ইন্ধনেই সাফাইকর্মীরা কাজ বন্ধ করেছেন। সাধারণ মানুষ তাদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে।জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই সাফাইকর্মীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তাঁদের মাসে মাসে পিএফের জন্য টাকা কাটা হলেও তা জমা পড়ছে না বলে অভিযোগ তোলা হয়। মেয়র বিধান উপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কিছু মানুষের নথি না থাকার জন্য সমস্যা হয়েছিল। দ্রুত সমস্যা মেটানো হবে। পরিচয়পত্র, মাসিক বেতন ১৫হাজার টাকা দেওয়ার দাবিতে গত শনিবার থেকে কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করছেন সাফাইকর্মীরা। তার জেরে শহরের জঞ্জালের স্তূপ দেখা যাচ্ছে। আপকার গার্ডেন থেকে মহিশীলা, জামুড়িয়া হাটতলা থেকে বরাকর, সর্বত্র একই সমস্যা। অনেকে আবর্জনা থেকে রোগ-ব্যাধি ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন। এই অবস্থায় মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের পাঁচজন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বসেন পুরসভার চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়, মেয়র পারিষদ সদস্য(নিকাশি) মানস দাস ও মেয়র পরিষদ(শিক্ষা) সুব্রত অধিকারী। জানা গিয়েছে, প্রতি মাসে ১৫হাজার টাকা বেতনের দাবি ছাড়া সব দাবি মেনে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৭ফেব্রুয়ারি তাঁদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার কথা জানানো হয়। তারপরেও আন্দোলন প্রত্যাহার হয়নি। উল্টে কর্মীদের অনেককেই বিজেপি নেতা কৃষ্ণা প্রসাদের অনুষ্ঠানে দেখা যায়। সেখানে তাঁদের হাতে এক বস্তা করে চাল তুলে দেন ওই বিজেপি নেতা। যা নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন পুরসভার চেয়ারম্যান। পুরসভার চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, নাগরিক পরিষেবা বিপর্যস্ত করে রাজনীতি করা ঠিক নয়। আমরা সাফাইকর্মীদের প্রায় সব দাবি মেনে নিয়েছি। তারপরেও কয়েকজন বিজেপি নেতা সাফাইকর্মীদের একাংশকে উসকানি দিচ্ছে। চাল দেওয়ার অনুষ্ঠান থেকে তা স্পষ্ট। যদিও বিজেপি নেতা কৃষ্ণা প্রসাদ বলেন, সাফাইকর্মীদের বেশিরভাগই মাসে ন’হাজার টাকা করে পান। কেন এত কম টাকা পাবেন? তাঁদের কর্মবিরতি চলছে। তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই চাল দিয়েছি। পুরসভাকে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে। মেয়র পারিষদ সদস্য(নিকাশি) মানসবাবু বলেন, বুধবারও সাফাইকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাঁদের প্রায় সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। সামাজিক সুরক্ষার কার্ড দেওয়া হবে। এরপরও যদিও আন্দোলন চলতে থাকে আমরাও বিকল্প রাস্তা বের করব। মানুষের হয়রানি মানা হবে না।
  • Link to this news (বর্তমান)