সংবাদদাতা, ঘাটাল: মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতার শেষ প্রান্তে ‘এগজাম এন্ড’ লেখা নিয়ে ঘাটাল মহকুমায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা ছাড়াই কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রে ইনভিজিলেটররা পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের শেষ লাইনের নীচে আড়াআড়ি দাগ টেনে ওই শব্দবন্ধ লিখে সই করছেন। তবে অধিকাংশ কেন্দ্রে এমন কোনো লেখা হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে, তেমনই আইনি জটিলতার আশঙ্কায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন খোদ ইনভিজিলেটররাও। মূলত দুপুর ২টায় পরীক্ষার সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। ঘাটাল ব্লকের বীরসিংহ ভগবতী হাইস্কুল সহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্রে এই নিয়ম কড়াকড়িভাবে পালন করা হচ্ছে। ওই কেন্দ্রের অফিসার ইন চার্জ তথা ঘাটাল ব্লকের যুব আধিকারিক শুভদীপ বাগ জানিয়েছেন, জেলাস্তর থেকে প্রাপ্ত নির্দেশ মেনেই তাঁরা এই পদক্ষেপ করছেন। পরীক্ষার্থীরা যাতে শেষ মুহূর্তের পর আর কিছু লিখতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই ওই দাগ টেনে সই করা হচ্ছে।তবে এই নিয়ে দ্বিমত রয়েছে শিক্ষক মহলের বড় অংশের। দাসপুর-২ ব্লকের বরুণা সৎসঙ্গ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তথা পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সম্পাদক সুজিত বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, পর্ষদ বা রাজ্যস্তর থেকে উত্তরপত্রের শেষে ‘এগজাম এন্ড’ লেখার কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা তাঁর জানা নেই। বেশ কিছু অভিভাবকের থেকে এই বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি রাজ্যস্তরে জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন।এ বছর ঘাটাল মহকুমায় ২৫টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট ১২ হাজার ৭৯৪ জন ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৭ হাজার ৪৯। পরীক্ষা চলাকালীন দেখা যাচ্ছে, মহকুমার গুটিকয়েক কেন্দ্রে উত্তরপত্রের শেষে ইনভিজিলেটররা বিশেষ চিহ্ন দিচ্ছেন। এবছর ইংরেজির প্রশ্নের সঙ্গেই উত্তরপত্র ছিল। সেখানেও একই ভাবে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। ঘাটাল বিদ্যাসাগর হাইস্কুলের ইনভিজিলেটররা জানালেন, কোনো বছরই তাঁদের ওভাবে স্বাক্ষর করতে হয়নি। তাই এবছরও করেননি। ওই ভাবে লাইন টেনে পরীক্ষা শেষ বলে সই করার নির্দেশও আসেনি।এই ভিন্নধর্মী নিয়মের জেরে অভিভাবক মহলে বিভ্রান্তি তুঙ্গে। যেসব পরীক্ষার্থীর খাতায় ওই শব্দবন্ধ লেখা হচ্ছে না, তাদের বাবা-মায়েরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এই ভেবে যে, এতে নম্বর কমে যেতে পারে কি না। অন্যদিকে, যেসব ইনভিজিলেটররা নির্দেশের চাপে সই করছেন, তাঁরাও প্রবল আতঙ্কে। তাঁদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কোনো উত্তরপত্র নিয়ে আইনি বিবাদ তৈরি হলে বা বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে, খাতার মাঝপথে সই করার যৌক্তিকতা প্রমাণ করা কঠিন হবে। কোনো লিখিত নির্দেশ ছাড়া উত্তরপত্রে কলম চালানো তাঁদের জন্য বড়সড় বিপদ ডেকে আনতে পারে বলেই মনে করছেন মহকুমার অভিজ্ঞ শিক্ষক সমাজ। সরকারি স্তরে স্পষ্ট কোনো বার্তা না মেলায় ঘাটালজুড়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি।